মানবপাচারের শিকার হয়ে গভীর সমুদ্রে ভাসতে থাকা অবৈধ অভিবাসীদের আশ্রয় দিতে থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়া সরকারের সহযোগিতা চেয়েছে বাংলাদেশ।
এসব দেশে এ পর্যন্ত শনাক্ত করা বাংলাদেশিদের দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে বলে জানান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম।
দেশ টিভিকে দেয়া একান্ত সাক্ষাতকারে এ কথা বলেন তিনি।
এদিকে, পাচারের শিকার অভিবাসীদের উদ্ধার ও খাবার পানীয়ের দ্রুত ব্যবস্থার তাগিদ দিছেন সাবেক কূটনীতিকরা। আর মানবপাচার রোধে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সঙ্গে সমন্বিত উদ্যোগের পরামর্শ আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা আইওএম-এর।
কয়েকদিন আগে ইন্দোনেশিয়ার উপকূল থেকে প্রায় দুই হাজার অবৈধ অভিবাসী উদ্ধারের পর মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ড এমনকি ইন্দোনেশিয়াও আর কোনও অবৈধ অভিবাসীবাহী নৌযান তীরে আসতে দিচ্ছে না। তাদেরকে আশ্রয় দিতে জাতিসংঘের আহ্বানেও সাড়া দিচ্ছে না দেশগুলো।
এ অবস্থায় নৌযানে ভাসতে থাকা কয়েক হাজার অবৈধ অভিবাসী অনাহারে, অসুস্থ হয়ে পড়ছেন। এরইমধ্যে কয়েকজনের মৃত্যুর খবরও পাওয়া গেছে।
এ ব্যাপারে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে যোগাযোগ করা হলে প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম টেলিফোনে বলেন, উদ্ধার হওয়া বাংলাদেশের নাগরিকদের দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
আর সমুদ্রে ভাসমান অভিবাসীদের সহায়তা করতে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তারা— জানান মন্ত্রী।
এদিকে, সাগরের বুকে নৌযানে থাকা এসব অসহায় বাংলাদেশিদের উদ্ধার ও চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে প্রয়োজনে জাহাজ পাঠানোর তাগিদ দিয়ে সাবেক রাষ্ট্রদূত তারিক মুনির মানবপাচার বন্ধে কঠোর পদক্ষেপের তাগিদ দিয়েছেন।
আর পাচার হওয়া মানুষের উদ্ধারে সরকারের ধীরগতির উদ্যোগের সমালোচনা করে, রোহিঙ্গাদের বিষয়েও কঠোর পদক্ষেপের পরামর্শ দিয়েছে, রিফিউজি অ্যান্ড মাইগ্রেটরি মুভমেন্ট রিসার্চ ইউনিট-রামরু।
এবিষয়ে সরকারকে সব ধরনের সহযোগিতার কথা জানিয়েছে আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা আইওএম।