ভোটার তালিকায় ১৫ বছর বয়সীদের নিবন্ধিত করা নিয়ে অস্পষ্টতা দেখা দেয়ায় কোনো কোনো মহল বিষয়টি নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন নির্বাচন কমিশন সচিব মো. সিরাজুল ইসলাম। সোমবার দেশ টিভিকে দেয়া একান্ত সাক্ষাতকারে তিনি এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, আসলে ৩ বছরের নিবন্ধনের কাজ একসঙ্গে করা হচ্ছে, তাদের কাউকে এখনই ভোটার করা হচ্ছে না বা জাতীয় পরিচয়পত্র দেয়া হচ্ছে না বরং শুধু তথ্য সংগ্রহ করে রাখা হচ্ছে। ১৮ বছর পূর্ণ হলেই অর্থাৎ ভোটার হওয়ার পরই তাদের জাতীয় পরিচয়পত্র দেয়া হবে।
ভোটার তালিকা হালনাগাদ নিয়ে এসব প্রশ্নের ব্যাখ্যা দিয়ে কমিশনের সচিব বলেন, খরচ এবং সময় বাঁচাতেই তিন বছরের নিবন্ধন একইসঙ্গে করা হচ্ছে। তবে ভোটার না হওয়ার আগে জাতীয় পরিচয়পত্র দেয়ার সিদ্ধান্ত এখনও নেয়া হয়নি।
নারী ভোটার কমে যাওয়া নিয়ে কোনো প্রশ্ন তোলা ঠিক নয়— উল্লেখ করে মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, আদম শুমারি অনুযায়ী নারী-পুরুষের সমতার মতোই ভোটার তালিকায়ও সমতা রয়েছে।
৩১ জানুয়ারির মধ্যে ভোটার তালিকা হালনাগাদ করার কথা থাকলেও কমিশন তা সব সময় পেরে উঠে না বলেও স্বীকার করে নেন নির্বাচন কমিশন সচিব।
এদিকে, প্রতি বছর ভোটার তালিকা হালনাগাদ না করে ৩ বছরের কাজ এক সঙ্গে করায় সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) মনে করছে, এতে কোনো অসৎ উদ্দেশ্য রয়েছে।
সুজনের সাধারণ সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার বলেন, ১৫ থেকে ১৭ বছর বয়স্কদের নিবন্ধন করা হলে তারা যে ভোটার তালিকায় অন্তভূর্ক্ত হয়ে যাবে না বা দুইবার ভোটার হয়ে যাবে না তার নিশ্চয়তা নেই।
প্রসঙ্গত, চলতি সপ্তাহের প্রথম দিন থেকে তৃতীয়বারের মতো ছবিসহ ভোটার তালিকা হালনাগাদের কাজ শুরু করেছে কমিশন। একইসঙ্গে প্রথমবারের মতো পনের বছর বয়সীদেরও নিবন্ধিত করা হচ্ছে।
তবে ১৮ বছর পূর্ণ হলেই কেবল তাদের ভোটার তালিকায় যুক্ত করা হবে এমন সিদ্ধান্তের কথা কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়।
যাদের জন্ম ২০০০ সালের ১ জানুয়ারি বা তার আগে তারা হালনাগাদের আওতায় আসলেও তাদের জাতীয় জাতীয় পরিচয়পত্র প্রদান কিংবা নিবন্ধিত হওয়া নিয়ে অস্পস্টতা ছিল।