বঙ্গবন্ধুকে হারানোর ৪০ বছর পর নানা ঘাত-প্রতিঘাত সত্ত্বেও বাংলাদেশ সঠিক পথেই এগুচ্ছে বলে মনে করছেন বিশিষ্টজনেরা। তাদের মতে, বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষের সকল শক্তিকে এক করে পথ হাঁটছেন। তার দৃঢ়তার কারণেই সম্ভব হয়েছে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের মুখোমুখি দাঁড় করানো।
তবে যে অবস্থায় আজ বাংলাদেশ দাঁড়িয়ে সেখান থেকে বঙ্গবন্ধুর কাঙ্খিত অসাম্প্রদায়িক, শোষণহীন, দুর্নীতিমুক্ত সোনার বাংলা গড়তে হলে সামনে পাড়ি দিতে হবে বন্ধুর পথ। এক্ষেত্রে সতর্কভাবে এগুনোর পরামর্শ বিশিষ্টজনদের।
পঁচাত্তরের ১৫ আগস্ট, বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের পর থেকে ২০১৫'র ১৫ আগস্ট—পার হয়েছে ৪০ বছর। স্বাধীনতার পর এ চার দশকে বারবার মুখ থুবড়ে পড়েছে বাংলাদেশের সাংবিধানিক শাসন, দেশের গণতান্ত্রিক অভিযাত্রা। প্রায় দুই দশকের টানা জলপাই শাসনের সেই ঘাত-প্রতিঘাত এখনো বয়ে বেড়াতে হচ্ছে দেশকে।
এমন অবস্থায় বঙ্গবন্ধুবিহীন বাংলাদেশ কতটুকু এগুতে পারল?
রাজনীতি বিশ্লেষক ডা. এস এ মালেক বলেন, সময়ের তুলনায় অনেকটা পিছিয়ে পড়লেও পথচ্যুত হয়নি প্রগতির পথে এ দেশের পথচলা। বঙ্গবন্ধুর দল আওয়ামী লীগের কাণ্ডারি, তারই কন্যা শেখ হাসিনা এখন দেশের নেতৃত্বে। বঙ্গবন্ধু হত্যার পর একাত্তরের পরাজিত শক্তির প্রতিক্রিয়াশীলতা, জঙ্গিবাদ, উগ্র মৌলবাদ যেভাবে বিষবাষ্প হয়ে উঠেছিল, তা থেকে রক্ষা করে তিনিই বাংলাদেশকে এগিয়ে নিয়ে চলেছেন। সংবিধানে বাহাত্তরের মূলনীতি ফিরে আসা ও যুদ্ধাপরাধীদের বিচার এক্ষেত্রে বড় অগ্রগতি।
প্রবীণ সাংকবাদিক কামাল লোহানী বলেন, তারপরও পরাজিত সাম্প্রদায়িক শক্তি নি:শেষ হয়নি। তারা ক্ষণে ক্ষণে মাথাচাড়া দিচ্ছে, ধর্মান্ধতা ও ধর্মের নামে রাজনীতি থামেনি, রয়ে গেছে স্বাধীনতাবিরোধী জামাতের আস্ফালনও। এসব প্রতিরোধে তাই আজও বড় বেশি প্রাসঙ্গিক বঙ্গবন্ধুর আদর্শ।
বঙ্গবন্ধুর কাঙ্খিত সোনার বাংলা গড়ে তুলতে সামনের পথ মসৃণ নয়। সে লক্ষ্যে পৌঁছাতে আওয়ামী লীগকে যেমন জনসম্পৃক্ততা বাড়াতে হবে তেমনি রাষ্ট্র তথা সরকারকে আরও কঠিন ও কঠোর অবস্থান নিতে হবে উগ্র সাম্প্রদায়িক শক্তির বিরুদ্ধে।