দেশে মোট চামড়ার যোগানের অর্ধেকই আসে কোরবানির ঈদে। এর ওপর ভিত্তি করেই প্রতিষ্ঠিত হয়েছে ট্যানারি আর চামড়া শিল্প। যাতে প্রায় দুই লক্ষাধিক লোকের কর্মসংস্থানের পাশাপাশি আয় হচ্ছে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা। এরইমধ্যে হিমায়িত খাদ্যকে টপকে চামড়া উঠে এসেছে দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম রপ্তানি খাত হিসেবে।
গবাদি পশুর এসব চামড়ার ওপর ভিত্তি করেই দেশে দাঁড়িয়েছে শত কোটি ডলারের চামড়া শিল্প। পশু জবাইয়ের পরপরই এসব চামড়া চলে যায় ফরিয়াদের হাতে। সেখানে লেনদেন হয় প্রায় কয়েকশো কোটি টাকা।
ফরিয়াদের হাত থেকে ট্যানারি পর্যন্ত এ চামড়াকে ঘিরে রুটি-রুজির যোগান হয় আরও বিপুল সংখ্যক মানুষের। সেখানেও লেনদেন প্রায় হাজার কোটি টাকা।
ট্যানারিতে পৌঁছানো মাত্রই চামড়ার শিল্পকরণের প্রক্রিয়া শুরু হয়। ধাপে ধাপে কয়েকটি প্রক্রিয়ায় মুল্য সংযোজনও হয় কয়েকগুণ।
প্রক্রিয়াজাত এসব চামড়ার সিংহভাগই রপ্তানি হয় বিদেশে। আর কিছু অংশ ব্যবহার হয় দেশীয় পাদুকা শিল্পে। গত অর্থবছরেই এই শিল্প থেকে প্রায় ১১৩ কোটি ডলারের বৈদেশিক মুদ্রা অর্জিত হয়েছে বলে জানায় রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি)।
এরইমধ্যে হিমায়িত খাদ্যকে টপকে চামড়া উঠে এসেছে দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম রপ্তানি খাত হিসেবে।
সংশ্লিষ্টদের হিসেবে, তৈরি পোশাক শিল্পেকে পেছনে ফেলে দেশের প্রথম রপ্তানি খাত হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার যথেষ্ট সম্ভবনা রয়েছে চামড়া শিল্পের।
চামড়া শিল্পের এ অগ্রগতির পেছনে সবচেয়ে বড় ভুমিকা পালন করছে কোরবানির ঈদ। কারণ সারা বছরে যে পরিমাণ চামড়ার যোগান হয় তার অর্ধেকই আসে এই ঈদে।
এই শিল্পের প্রায় শতভাগ কাঁচামাল, দেশীয় উৎস থেকে সংগৃহিত হয়। যে কারণে, রপ্তানি আয়ের প্রায় পুরো অর্থই যুক্ত হয় দেশীয় অর্থনীতিতে।