প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি বাংলাদেশের এক অন্যতম বিস্ময়মাখা স্থানের নাম সিলেটের রাতারগুল জলার বন। গত কয়েকবছর আগেও মিঠাপানির এ বনটি অপরিচিত ছিল মানুষের কাছে। গণমাধ্যম-সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বনটি সম্পর্কে জানার পর থেকেই মাত্রাতিরক্ত পর্যটকটের আগমন বনের উদ্ভিদ ও প্রাণীকূলের অস্তিত্বকে হুমকির মুখে ফেলে দেয়।
বনের জীববৈচিত্র রক্ষায় এরই মধ্যে এ বনকে ‘বিশেষ জীববৈচিত্র সংরক্ষণ এলাকা’ হিসেবে ঘোষণা করেছে সরকার। সেইসঙ্গে বন সুরক্ষায় স্থানীয় জনগণকে সম্পৃক্ত করে হাতে নেয়া হয়েছে বেশ কিছু পদক্ষেপ।
সিলেটের রাতারগুলের জলার বন, স্থানীয়ভাবে সিলেটের সুন্দরবন নামেও পরিচিত এ বন। এর অবস্থান সিলেট শহর থেকে আনুমানিক ১৬ কিলোমিটার উত্তর পূর্ব দিকে গোয়াইনঘাট উপজেলার রাতারগুল গ্রামে। সারাবিশ্বে হাতেগোনা যে কয়টি মিঠাপানির জলাবন রয়েছে রাতারগুল তার মধ্যে অন্যতম। সে কারণেই এ বনের প্রতিবেশ বিশেষ বৈশিষ্ট্যপূর্ণ।
বন বিভাগের হিসেব অনুযায়ী জলাবনটিতে ৭৩ প্রজাতির উদ্ভিদ, ২৬ প্রজাতির স্তন্যপায়ী, ২০ প্রজাতির সরিসৃপ, ৯ প্রজাতির উভচর এবং ১৭৫ প্রজাতির পাখির অস্বিত্ব রয়েছে।
মাত্র ৩ বছর আগেও এ বন দেশের মানুষের কাছেই ছিল অপরিচিত। তবে গণমাধ্যম আর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে রাতারগুলের তথ্য প্রকাশিত হতে থাকলে সেখানে ভিড় জমাতে থাকেন সৌন্দর্যপিপাসু পর্যটকরা।
তবে পর্যটকদের চাপে অস্তিত্ব সংকটের মুখে পড়ে বনের প্রতিবেশ। এ পরিপ্রেক্ষিতে সরকার এ বনটিকে বিশেষ জীববৈচিত্র সংরক্ষণ এলাকা হিসেবে ঘোষণা করে। সেইসঙ্গে স্থানীয় জনগোষ্ঠীকে সম্পৃক্ত করে বনের প্রতিবেশ রক্ষায় বেশ কয়েকটি পদক্ষেপ হাতে নেয় বন বিভাগ। এসব পদক্ষেপ বিশেষ প্রকৃতির এই বন সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
তবে স্থানীয় জনগোষ্ঠী বলছে, সংবেদনশীল এই বনের পরিবেশ রক্ষার্থে কোনো প্রকল্প নেয়া হলে বিশেষজ্ঞসহ সংশ্লিষ্টদের মতামতের ভিত্তিতেই নিতে হবে তা। এ বিষয়ে একমত সরকারের বন বিভাগও।