প্রায় ৩ হাজোর কোটি টাকার রপ্তানি এবং প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে পৌনে দুই কোটি লোকের কর্মসংস্থানের সুযোগের হাতছানি বাংলাদেশের সামনে। চীনের তৈরি পোশাকের বাজার ছেড়ে দেয়ার নীতিগত সিদ্ধান্তের ফলে এ সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে বাংলাদেশের সামনে। সম্প্রতি বিশ্বব্যাংকের এক গবেষণায় এ তথ্য উঠে এসেছে।
এ সুযোগ কাজে লাগাতে ব্যবসায়ীরা প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন বিজিএমইএর সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান।
এরজন্য বিনিয়োগ বোর্ড ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডসহ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের দক্ষতা বাড়নোর পরামর্শ দিয়েছেন বিশ্বব্যাংকের অর্থনীতিবিদ জাহিদ হোসেন।
শ্রমমূল্য এবং শিল্প উৎপাদন খরচ সাম্প্রতিক সময়ে এ দুটোই বেড়ে যাওয়ায় চীন আর চাচ্ছে না অপেক্ষাকৃত কম মূল্যের কোনো পণ্য উৎপাদন করতে। এ জন্যই তারা তৈরি পোশাকের উৎপাদন অনেক কমিয়ে দেবে বলে ধারনা বিশেষজ্ঞদের।
বর্তমানে চীন প্রায় ১৫ হাজার কোটি ডলারের পোশাক রপ্তানি করে। বিশ্বব্যাংকের গবেষণায় উঠে এসেছে এ বাজারের ২০% যদি বাংলাদেশ ধরতে পারে তাহলে তৈরি পোশাকে রপ্তানি বাড়বে ২৯০০ কোটি ডলার। আর শুধু এ শিল্পেই কর্মসংস্থান হবে ৫৪ কোটি লোকের। পরোক্ষভাবে কাজের সুযোগ সৃষ্টি হবে আরো ১ কোটি ৩৪ লাখ মানুষের। ভোগলিক অবস্থান ও তৈরি পোশাক শিল্পে বাংলাদেশের প্রায় ৪ দশকের অভিজ্ঞতা এবং সস্তা শ্রমের কারণে বাংলাদেশের সামনে উজ্জ্বল সম্ভাবনা আছে এ সুযোগ সদব্যবহার করার।
প্রশ্ন হলো এ সুযোগ বাংলাদেশ কতটা নিতে পারবে এবং ব্যবসায়ীরা এ জন্য কতটা প্রস্তুত। এ জন্য দরকার হবে বিপুল অংকের দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ।
অর্থনীতিবিদ জাহিদ হোসেন বলেন, সবার আগে বিনিয়োগ পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে।
জ্বালানি, বন্দর অবকাঠামোর উন্নয়নের পাশাপাশি প্রাতিষ্ঠানিক দক্ষতা বাড়ানোর পরামর্শও দেন তিনি।
তাদের মতে এ জায়গাগুলোর উন্নতি করতে পারলে তৈরি পোশাকের পাশাপাশি অন্যান্য শিল্পেরও দ্রুত বিকাশ ঘটবে।