পর্যটন যে একটি দেশের অর্থনীতির মূল চালিকা শক্তি হতে পারে, থাইল্যান্ড তার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। নানা বৈচিত্রের মধ্যেও দেশটির ঐক্যসূত্র ‘থাইনেস’ বাংলায় যাকে বলা যায় ‘থাইসত্ত্বা’। থাইদের ঐতিহ্য-সংস্কৃতি, সপ্রতিভ-সদাহাস্য মুখ, আতিথেয়তা ও খাবার-বৈচিত্রের জীবনধারার দেখা মিলবে দেশময় ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা সকল পর্যটন কেন্দ্রেই। পর্যটনবান্ধব এ এক অনন্য সংস্কৃতি।
পর্যটনের ওপর গড়ে ওঠা অর্থনীতি ও তাকে ঘিরে এগিয়ে যাওয়ার দেশ থাইল্যান্ড। গত বছরের রাজনৈতিক অস্থিরতা থিতু হয়ে আসছিল নির্বাচন দেয়ার ঘোষণা দিয়ে সামরিক সরকারের স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার চেষ্টায়।
গত আগস্টের মাঝামাঝি রাজধানী ব্যাংককের ইরাওয়ান স্কয়ারে ব্রম্মার প্রার্থনা বেদীতে বোমা বিস্ফোরণের ঘটনায় ধারণা করা হয়েছিল থাইল্যান্ডের পর্যটন তথা অর্থনীতির প্রদীপ বুঝি নিভে গেল। কিন্তু এরকম প্রচারণা আদতে তেমন ভিত্তি পায়নি, থাইল্যান্ডের পর্যটন-গৌরবও রয়ে গেছে আগের অবস্থা নেই।
তবে তার রেশ ছিল মাত্র কয়েকদিন। যেন কিছুই হয়নি। পর্যটকদের কোলাহলে আবারও সরব হয়ে উঠেছে থাইল্যান্ড। পাতায়ার কথাই ধরা যাক। নিম্নচাপের প্রভাবে সেখানে কয়েকদিন সৈকত ডুবে পড়ে থাকলেও ডুবে যায় না পর্যটন- নির্যাস। অকপটে স্বীকার করেন, কেন তারা ছুটে আসেন।
তাই বিচ্ছিন্ন সন্ত্রাসের ঘটনা বা প্রাকৃতিক দুর্যোগে শেষ হয়ে যায় না কিছুই। রহস্য কী? কর্তৃপক্ষীয় সংবাদ সম্মেলনেও উঠে আসে সে কথা।
ট্যুরিজম অথরিটি অব থাইল্যান্ডের ডেপুটি গভর্নর ফর মার্কেটিং কমিউনিকেশন সুগ্রি সিথিভানিচ বলেন, ‘বোমা বিস্ফোরণের ঘটনা আমাদের জন্য বড় আঘাত। তবে পর্যটনে তার প্রভাব ফেলতে দেই নি। যেভাবেই হোক তা সামাল দিয়েছি। কারণ আমরা পর্যটনদের চাঙ্গা রাখতে বদ্ধ পরিকর। তার প্রমাণ কিন্তু পাওয়াই যাচ্ছে। আমাদের দেশ, আমাদের থাইসত্ত্বাকে পর্যটকরা ভালবাসে। তাই যাই ঘটুক না কেন তারা থাইল্যান্ডে না এসে পারে না। ’