সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ও ইন্টারনেট টেলিফোন সার্ভিসের উপর নজরদারি বাড়াচ্ছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন-বিটিআরসি।
সাইবার ক্রাইম রোধে প্রয়োজনে ভাইবার ও হোয়াটস অ্যাপের মতো জনপ্রিয় সার্ভিস বন্ধ করে দেয়া হতে পারে বলে জানিয়েছেন বিটিআরসির চেয়ারম্যান শাহজাহান মাহমুদ।
তবে সাইবার অপরাধ রোধে এটা কোনো স্থায়ী সমাধান নয় বলে মনে করেন নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা— এগুলো বন্ধ না করে প্রযুক্তি দিয়েই প্রযুক্তির মোকাবেলার পরামর্শ সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের।
তথ্য প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাড়ছে এর অপব্যবহারও— বিশেষ করে ইনটারনেট টেলিফোন সার্ভিস ভাইবার, হোয়াটস অ্যাপ ও ট্যাংগোর মতো অ্যাপসগুলো সন্ত্রাসীরা নিরাপদ যোগাযোগের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করছে। যা ভাবিয়ে তুলেছে নিরাপত্তা বাহিনী ও সরকারকে।
এর অংশ হিসেবে গত ১১ নভেম্বর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতীয় সংসদে ভাইবার ও হোয়াটস আপ সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেয়ারও ইঙ্গিত দেন।
শেখ হাসিনা ন বলেন, ‘ক্রাইম করছে যারা এ ধরনেরক্রিমিনাল যারা এ ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত তাদেরকে খুঁজে বের করার জন্য যখন প্রয়োজন হবে তখন এটা কিছু দিনের জন্য বন্ধ রাখা হবে। বন্ধ রেখেই আমরা এই সন্ত্রাস বা জঙ্গিবাদকে ধরার চেষ্টা করবো।’
টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিটিআরসিও এ ব্যাপারে প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছে।
হোয়াটস অ্যাপ ও ভাইবার বন্ধ করা হবে না কি প্রযুক্তি সক্ষমতা বাড়িয়ে এগুলো নিয়ন্ত্রণ করা হবে তা নিয়ে চলতি মাসেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া হবে বলে জানিয়েছেন সংস্থাটির চেয়ারম্যান শাহজাহান মাহমুদ।
তিনি বলেন, ‘ প্রতিদিন আপনি যদি ফোনে কথা বলেন সেগুলো মনিটর করা যায় আবার অনেকগুলো প্রযুক্তি আছে যেগুলো মনিটর করা কঠিন সেগুলো যদি মনিটর করা যায় তাহলে তার বিপরীতে বন্ধ করা ছাড়া উপাই নেই।’
জনপ্রিয় এসব সার্ভিস বন্ধ করে দিলে সাইবার অপরাধ কমবে কি না, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে নিরাপ্ত্তা বিশ্লেষকদের।
তবে রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার স্বার্থে, সাময়িকভাবে এগুলো বন্ধ করা যেতে পারে বলে তারা মনে করেন।
তবে তথ্য প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ মোস্তফা জব্বার বলেন, এগুলো বন্ধ করলে সন্ত্রাসীরা নতুন কোনো মোবাইল অ্যাপস ব্যবহার করবে।
তিনি বলেন, ‘প্রযুক্তি দিয়ে প্রযুক্তিকে দমন করতে হয়। আমাদের বুঝতে হবে আমরা যখন ডিজিটাল রুপান্তর করবো এর ভালো দিকটাও আসবে এর খারাপ দিকটাও আসবে সুতরাং অপরাধ তার সঙ্গে যুক্ত থাকবে এটা স্বাভাবিক বিষয়।’
তাই দেশের প্রযুক্তি সক্ষমতা বাড়িয়ে এসব সাইবার অপরাধ মোকাবেলার পরামর্শ তাদের।
এর পাশাপাশি, সাইবার ক্রাইম মোকাবেলায় তথ্য প্রযুক্তিতে দক্ষ জনবল নিয়োগেরও পরামর্শ তাদের।