যুদ্ধাপরাধ বিচারে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের দেয়া কয়েকটি রায়ের পর্যবেক্ষণে ব্যক্তির পাশাপাশি জামাতকেও যুদ্ধাপরাধী সংগঠন হিসেবে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে। সম্প্রতি মার্কিন সিনেটের প্রতিবেদনেও উঠে এসেছে জঙ্গি অর্থায়নের সঙ্গে জামাতের নিয়ন্ত্রণাধীন কিছু আর্থিক প্রতিষ্ঠানের জড়িত থাকার কথা।
তবে জামাতের বিচার, জামাতকে নিষিদ্ধ এবং তাদের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিষয়ে এখনো কোনো ব্যবস্থা নিতে পারেনি সরকার।
বিশিষ্টজনদের দাবি, গড়িমসি না করে যুদ্ধাপরাধীদের সম্পদ ও জামাতি প্রতিষ্ঠানগুলোকে সরকারের নিয়ন্ত্রণে নিতে হবে ।
হানাদার পাকিস্তানিদের কবল থেকে একাত্তরে দেশমাতৃকাকে মুক্ত করতে দেশের যে সূর্যসন্তানরা জীবন বাজি রেখে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন মুক্তিযুদ্ধে, স্বাধীন দেশে তাদের এমন জীবন সংগ্রামের চিত্র এখনো চোখে পড়ে।
জাতি, রাষ্ট্র, সরকার মুক্তিযোদ্ধাদের এরকম করুণ অবস্থায় দিনাতিপাত দেখে বিচলিত হয় ঠিক-ই, তবে কল্যাণকর তেমন কিছুই করতে পারে না।
একই অবস্থা মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের অনেকের পরিবারেরও। আর্থিক দৈন্যতা তাদের নিত্যসঙ্গী।
অথচ এ ঠিক বিপরীত চিত্র মুক্তিযুদ্ধের সময় যারা পাকিস্তানি বাহিনীর দোসর ছিল তাদের অবস্থা-প্রতিপত্তির।
হানাদারদের দোসর রাজাকার-আলবদর-আলশামসরা শুধু মুক্তিকামী মানুষকেই হত্যা করেনি, লুট করেছে তাদের সমস্ত সহায় সম্পদ।
অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক আবুল বারকাতের গবেষণায় বহু আগেই উঠে এসেছে একাত্তরে পাকিস্তানি দোসরদের দল জামাত এ দেশে তাদের দলীয় লোকদের নিয়ন্ত্রিত ২৬৩টি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে বছরে ২০০০ কোটি টাকার নিট মুনাফা করছে।
যার ভিত তৈরি হয়েছিল একাত্তরে লুটের সম্পদের মাধ্যমে।
বিশিষ্টজন এবং শহীদ পরিবারের সদস্যরা বলছেন, যুদ্ধাপরাধ বিচারে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রায়ে জামাত যুদ্ধাপরাধী সংগঠন হিসেবে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পরও তাদের বিচার শুরু করা এবং তাদের বিরুদ্ধে এখনও ব্যবস্থা না নেওয়াটা হতাশাজনক।
পাশাপাশি জামাতের বিরুদ্ধে রয়েছে জঙ্গি কর্মকাণ্ডে অর্থায়নের অভিযোগও। তাদের আশাবাদ, সরকার কঠোর ব্যবস্থা নিতে অবশ্যই উদ্যোগী হবে।
অর্থনীতিবিদরা এ ব্যাপারে সরকারের সামনে কোনো বাধাও দেখছেন না। এ বিষয়ে সদিচ্ছাই জরুরি বলে মনে করেন তারা।
মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী এ সকল দাবির সঙ্গে একমত হয়ে, প্রতিষ্ঠানগুলোর বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ চলছে। সেইসঙ্গে চলমান রয়েছে জামাতকে নিষিদ্ধ করার বিষয়টিও।