আজ বেগম রোকেয়া দিবস। বাঙালি নারী জাগরণের অগ্রদূত মহীয়সী নারী বেগম রোকেয়ার জন্ম এবং মৃত্যু বার্ষিকী।
উনবিংশ শতাব্দীর কুসংস্কারারাচ্ছন্ন রক্ষণশীল সমাজের শৃঙ্খল ভেঙে তিনি নারী জাতির মধ্যে ছড়িয়েছিলেন শিক্ষার আলো। আঘাত হেনেছেন সমাজের বৈষম্যমূলক আচরণে। প্রতি বছরই দিনটি নানা আয়োজনে পালিত হলেও তার জন্মস্থান রংপুরের পায়রাবন্দে ভিটেবাড়ি ও স্মৃতিকেন্দ্রটি পড়ে আছে অনাদর-অবহেলায়। এরই মধ্যে হারিয়ে গেছে মূল্যবান বইসহ অনেক আসবাবপত্র।
বেগম রোকেয়ার জন্ম ১৮৮০ সালে রংপুরের পায়রাবন্দ গ্রামে। তৎকালীন রক্ষণশীল মুসলিম সমাজ ব্যবস্থার মধ্যেই বড় ভাইয়ের সহায়তায় ঘরে আরবী ও উর্দু ভাষায় পারদর্শী হয়ে উঠেন রোকেয়া। গোপনে বাংলা ও ইংরেজি ভাষাও শিখেন তিনি। রক্ষণশীল জমিদার পরিবারের কঠোর অনুশাসনের মধ্যে থেকেও নারী শিক্ষার আলো ছড়িয়ে ছিলেন এ মহীয়সী নারী।
১৯৯৭ সালে পায়রাবন্দ গ্রামে তার স্মরণে গড়ে তোলা হয় একটি স্মৃতি কেন্দ্র। তবে ক্ষমতার পালাবদলে বার বার বন্ধ হয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। অনেক হাত ঘুরে ২০০৮ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকার স্মৃতি কেন্দ্রটি বিকেএমইএর কাছে হস্তান্তর করে। এরপর নারী ও শিশু মন্ত্রণালয়কে দায়িত্বভার দেয়া হলেও এখনও চালু হয়নি কেন্দ্রটি।
জরাজীর্ণ অবস্থায় পড়ে আছে বেগম রোকেয়ার বসতবাড়িও। তার নামে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কিন্তু সেখানে বেগম রোকেয়াকে নিয়ে কোনো গবেষণার সুযোগ নেই। এমনকি তার একটি প্রতিকৃতিও নেই।
রোকেয়া স্মৃতিকেন্দ্রের অনেক আসবাবপত্র ও মূল্যবান বই হারিয়ে গেছে। মেরামতের অভাবে নষ্ট হচ্ছে স্মৃতিচিহ্নগুলোও।
শুধু লোক দেখানো আয়োজন নয়, বেগম রোকেয়া স্মৃতি কেন্দ্রটি চালুসহ তার সৃষ্টিকর্ম ও বসতভিটা সংরক্ষণের দাবি পায়রাবন্দের মানুষের।