দেশের সিলেট অঞ্চলসহ সর্বত্রই শিশুদের গুঁড়ো দুধ বা বিকল্প খাদ্য খাওয়ানোর প্রবণতা অনেক বেশি। পুষ্টিবিদরা বলছেন এসব গুঁড়ো দুধ খাওয়ানোর ফলে শিশু ডায়রিয়া, ডিসেন্ট্রিসহ নানা ধরনের রোগে আক্রান্ত হতে পারে। এমনকি মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে।
এ পরিস্থিতিতে শিশুদের গুঁড়ো দুধ বা বিকল্প খাবার খাওয়ানো বন্ধে সরকারি ও বেসরকারিভাবে কার্যকরী পদক্ষেপ নেয়ার ওপর জোর দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
তিন সন্তানের মা সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জের লায়লা বেগম। তিন সন্তানকেই তিনি বুকের দুধের বদলে গুঁড়ো দুধ খাইয়েছেন। এ কারণে তিনজনই ভুগছে অপুষ্টিতে।
একইভাবে জমজ সন্তানের মা হওয়ায় - বাচ্চারা বুকের দুধ পর্যাপ্ত পাচ্ছে না মনে করে তাদের গুঁড়োদুধ খাওয়াতে জোর করেই চিকিৎসকের সম্মতি আদায় করেন ফেঞ্চুগঞ্জের এই মা।
এরকম ঘটনা শুধু সিলেটেই ঘটছে তা নয়, দেশের অন্যত্রও আছে মায়েদের এরকম অসচেতনতা। মাতৃদুগ্ধপানে বঞ্চিত হয়ে এভাবে ৪১% শিশু ভুগছে দীর্ঘস্থায়ী অপুষ্টিতে।
পুষ্টিবিদ এম কিউ কে তালুকদার বলেন, শিশুর জন্য যে বয়সে যতোটুকু পুষ্টি দরকার তার পুরোটাই মায়ের বুকের দুধে আছে। বরং গুঁড়ো দুধেই শিশু ডায়রিয়া, ডিসেন্ট্রিসহ নানা রোগে আক্রান্ত হয়ে পড়ে। সিলেট এলাকায় শিশুদের এক্সক্লুসিভ ব্রেস্ট ফিডিং নিশ্চিত করা এবং গুঁড়ো দুধের অপকারিতা সম্পর্কে মায়েদের সচেতন করতে সরকারিভাবে নানা উদ্যোগ রয়েছে বলেও জানান তিনি।
এছাড়া বাড়ি বাড়ি গিয়ে কাউন্সেলিং করছেন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের স্বাস্থ্যকর্মীরা। পাশাপাশি মায়ের পুষ্টি নিশ্চিত করতে কিশোরী মেয়েদের নিয়ে উঠোন বৈঠকসহ নানা ধরনের সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করছে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো।