সাম্প্রতিক সময়ে ট্যানারি সরানোর ব্যাপারে বেশ অগ্রগতি হলেও, রাজধানীর হাজারীবাগ কবে ট্যানারি মুক্ত হবে তা এখনো অনিশ্চিত। কারণ সাভারে চামড়া শিল্পনগরী স্থানান্তরের ব্যাপারে বেশিরভাগ ট্যানারি এখনো ৫০ ভাগ কাজও এগিয়ে নিতে পারেনি।
পেরিয়ে গেছে এক যুগেরও বেশি সময়। এরমধ্যে সরকার পরিবর্তন হয়েছে তিনবার। কিন্তু হাজারীবাগ থেকে মাত্র ১৫ কিলোমিটার দূরে সাভারেরর হেমায়েতপুরে ট্যানারিগুলো সরানো সম্ভব হয়নি। এ এলাকায় ছোট-বড় মিলিয়ে ২০৫টি ট্যানারি আছে। তবে এর মধ্যে সাভারের চামড়া শিল্প নগরীতে প্লট পেয়েছে ১৫৫টি। সে হিসেবে কমপক্ষে ৫০টি প্রতিষ্ঠানকে হাজারীবাগেই চামড়া প্রক্রিয়াকরণ কাজ করতে হবে। তবে যারা প্লট পেয়েছে, তাদেরই বা ট্যানারি স্থানান্তরের প্রস্তুতি কতটুকু?
কিছু প্রতিষ্ঠান দুই থেকে তিনতলা পর্যন্ত ছাদ ঢালাই করেছে। কিছু প্রতিষ্ঠান পাইলিংয়ের কাজ শেষ করেছে। আবার কিছু প্রতিষ্ঠান একেবারেরই কাজ শুরু করেনি। তবে ভবণ নির্মাণ, প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি স্থাপন এবং গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংযোগের কাজ শেষ করে, সহসাই উৎপাদনে আসতে পারে, এমন অগ্রগতি নেই একটি প্রতিষ্ঠানেরও।
কাজের অগ্রগতি নিয়ে, সাভারে চামড়া শিল্পনগরীর সবশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী- প্লট বরাদ্দ পাওয়া ১৫৫ টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে, চলতি মাসের মধ্যে ছাদ ঢালাই শেষ হবে ৫০টি প্রতিষ্ঠানের। ৮০টি প্রতিষ্ঠানের শুধু ভবন নির্মাণের ব্যাপারে প্রায় ৪০-৪৫ শতাংশ অগ্রগতি হয়েছে। বলার মতো কোন কাজই করেনি এমন প্রতিষ্ঠান রয়েছে ২৫টি।
সাভারে ট্যানারি স্থানান্তরের বিষয়ে ২০০২ সালে প্রথম উদ্যোগ নেয় বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট সরকার। মন্ত্রিসভার বৈঠকে অনুমোদন ছাড়া, সে সময়ে এ বিষয়ে তেমন অগ্রগতি হয়নি। এরপর ২০০৮ সালে কিছু উদ্যোগ নেয়া হলেও, অগ্রগতি ছিল সামান্য।
এরপর ২০১০ সালে, আওয়ামী লীগ সরকার ট্যানারি স্থানান্তরে, মালিকদের ক্ষতিপুরণ দেয়ার শর্তে একটি সমঝোতায় পৌঁছে। তারপর থেকেই মুলত শুরু হয় ট্যানারি সরানোর প্রক্রিয়া।
২০১৩ সালে ট্যানারি স্থানান্তর শেষ করার কথা থাকলেও, বাস্তবে তা সম্ভব হয়নি। এরজন্য ট্যানারি মালিকপক্ষের অনাগ্রহের পাশাপাশি অভাব ছিল সরকারি উদ্যোগেরও।