নির্মাণ কাজে সমন্বয়হীনতা আর বার বার নকশা পরিবর্তনের কারণে আবারো ব্যয় বাড়লো মগবাজার-মৌচাক উড়াল সড়ক প্রকল্পের। সাড়ে ৩০০ কোটি টাকার প্রকল্প ব্যয় তিনগুন বেড়ে প্রায় ১১০০ কোটি টাকায় ঠেঁকেছে। সেইসঙ্গে বেড়েছে নগরবাসীর দুর্ভোগও।
মাঝে মাঝে ছোট-বড় গর্ত, ভাঙাচোরা সড়কের মাঝে বিশাল অংশ জুড়ে ভারি ভারি মেশিন, যন্ত্রপাতি। তার ওপর ধুলা-বালিতে একাকার। এসব কারণে সরু হয়ে যাওয়া দুইদিকের রাস্তায় ভয়াবহ যানজট। বাংলামোটর থেকে মৌচাক পর্যন্ত দেড় কিলোমিটার রাস্তা পেরুতেই ঘণ্টা পেরিয়ে যায়। সময়মতো কাজ শেষ না হওয়ায় প্রকল্প এলাকাজুড়ে নির্মাণ কাজের ডামাডোলে গত তিন বছর ধরে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে।
এদিকে, তমা কনস্ট্রাশনের প্রকল্প ম্যানেজার সঞ্জয় কুমার বলেন, গ্যাস, বিদ্যুৎ, পানির লাইনসহ বিভিন্ন সংস্থার ইউটিলিটি লাইন মাটির নিচে থাকায় নির্মাণ কাজ ব্যহত হওয়ায় সময় বেশি লেগেছে।
তিনি বলেন, আগের নকশা অনুযায়ী তিন লেন বিশিষ্ট ৮.৭০ কিলোমিটার দৈর্ঘের উড়াল সড়কের ওঠানামার পথ নির্ধারণ করা হয়েছিল তেঁজগাওয়ের সাত রাস্তা, মগবাজার, হলি ফ্যামিলি হাসপাতাল, বাংলামোটর, মালিবাগ, রাজারবাগ পুলিশ লাইন,শান্তিনগর ও এফডিসি পর্যন্ত। এরই মধ্যে নাভানা কনস্ট্রাকশন প্রায় শতভাগ কাজ শেষ করে ফেলেছে। নকশা পরিবর্তনের কারণে নির্মিত পিলার ভেঙে নতুন করে সোনারগাঁও হোটেল পর্যন্ত নির্মাণ করতে হবে।
সবশেষ অগ্রগতি প্রতিবেদন অনুযায়ী তিনটি অংশের মধ্যে তিনবছরে সাতরাস্তা থেকে রমনা পর্যন্ত ২.১ কিলোমিটার সড়কের কাজের অগ্রগতি ৯০ শতাংশ। ইস্কাটন থেকে মৌচাক ২.২ কিলোমিটারের ৮৫ শতাংশ আর রামপুরা থেকে শান্তিনগর রাজারবাগ অংশে ৪৫ শতাংশ। আর নকশা পরিবর্তনের কারণে এ পর্যন্ত ১২২টি স্থানে পাইলিং বদলাতে হয়েছে বলেও জানান তিনি।
তবে সবকিছু শেষ করে আগামী বছরেই উড়াল সড়কটি যানবাহন চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করে দেয়া হবে বলে দাবি করছে নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠানগুলো।
ঢাকার যানজট নিরসনে উড়াল সড়ক নির্মাণে ১৯৯৯ সালে নেয়া উদ্যোগ বাস্তবায়ন শুরু হয় ২০১১ সালে। তিন বছর মেয়াদের প্রকল্প ২০১৩ সালে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও নকশা পরিবর্তনের কারণ দেখিয়ে মেয়াদ বাড়ানো হয় ২০১৬ পর্যন্ত। তবে সে সময়ের মধ্যেও কাজ শেষ না হওয়ায় আরো দেড় বছর বাড়িয়ে ২০১৭ সালের জুন পর্যন্ত সময় নির্ধারণ করেছে সরকার। আর এতে সাড়ে ৩০০ কোটি টাকার প্রকল্প ব্যয় বেড়ে এখন দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ২১৮ কোটি ৯০ লাখ টাকায়।