আগামী কাউন্সিলে দলের গঠনতন্ত্রে বেশ বড় ধরনের পরিবর্তনই আনছে বিএনপি। একটির বেশি পদে থাকতে পারবেন না দলের কোনো নেতাই।
এছাড়া কো-চেয়ারম্যানের পদ সৃষ্টি এবং চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিল বিলুপ্ত করে দলীয় উপদেষ্টামণ্ডলি সৃষ্টির কথা ভাবছে দলের হাই-কমান্ড। ভাবা হচ্ছে দু'জন মহাসচিব নির্বাচনের কথাও।
বিএনপি নেতারা জানাচ্ছেন, নেতৃত্বের বিকেন্দ্রীকরণ ও দলে গতিসঞ্চার করতেই এবারের ষষ্ঠ জাতীয় কাউন্সিলকে ঘিরে এসব পরিকল্পনা হচ্ছে।
সব কিছু ঠিকঠাক থাকলে আর দেড় মাস পরেই হবে দীর্ঘ ৬ বছর ধরে ঝুলে থাকা বিএনপির ষষ্ঠ জাতীয় কাউন্সিল।
একে ঘিরে নানা হিসেব-নিকেশ আর জল্পনা-কল্পনা চলছে দলের হাইকমান্ড থেকে তৃণমূল পর্যন্ত সর্বস্তরে। কাঙ্খিত পদ পেতে চলছে নেতাদের জোর লবিং-দৌড়ঝাঁপ। কাউন্সিলের প্রয়োজনীয় সাব-কমিটি চূড়ান্ত করে দায়িত্বপ্রাপ্তদের মৌখিকভাবে জানিয়েও দেয়া হয়েছে।
পরিবর্তিত রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট বিবেচনায় এবারের কাউন্সিলে বেশ বড় ধরনের সংশোধনী আসছে দলের গঠনতন্ত্রে। কোনো মামলায় সাজাপ্রাপ্ত হয়ে চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া কারাগারের গেলে তার অবর্তমানে দলের হাল ধরা ও গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য বিকল্প পন্থার কথা ভাবছে দলটি।
সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান পদ বিলুপ্ত করে কো-চেয়ারম্যান পদ সৃষ্টির কথা আলোচনা সে থেকেই। আর এ দুটি পদ যে খালেদা জিয়া এবং তারেক রহমানের জন্য তাও নিশ্চিত। কাউন্সিলররা তা শুধু চূড়ান্ত করবেন মাত্র।
এদিকে, মহাসচিব হওয়ার দৌঁড়ে এগিয়ে আছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তবে ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, তরিকুল ইসলাম, হান্নান শাহ, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, আব্দুল্লাহ আল নোমান এবং রুহুল কবির রিজভীসহ বেশ কয়েকজনের নামও শোনা যাচ্ছে।
আবার গঠনতন্ত্রে সংশোধনী এনে দু'জন মহাসচিব নির্বাচনের কথাও জোর আলোচনায় আছে। একজন দায়িত্ব পালন করবেন মুখপাত্রের, আরেকজন সাংগঠনিক কার্যক্রমের।
এছাড়া, দলীয় উপদেষ্টা কাউন্সিল এবং কোনো নেতাকে একাধিক পদ না দেওয়ারও সিদ্ধান্ত হতে পারে কাউন্সিলে।
আর জেলা কমিটি পুনর্গঠন না করে জাতীয় কাউন্সিল করার প্রশ্নে নেতারা বলছেন, এতে খুব একটা সমস্যা হবে না। পুরনো কমিটি থেকেই চেয়ারপার্সন কাউন্সিলর ঠিক করে দেবেন।