ভাষা আন্দোলন আমাদের গৌরবের শ্রেষ্ঠ অধ্যায়— আমাদের চেতনার আগুনে দীপ্ত প্রেক্ষাপট।
বায়ান্নর ভাষা আন্দোলনে ছাত্রদের ওপর পুলিশের গুলিবর্ষণের পর আন্দোলন সংগ্রাম ছড়িয়ে পড়েছিল তখনকার যোগাযোগে পিছিয়ে থাকা গ্রামাঞ্চলেও। মাতৃভাষার আন্দোলনে শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে সব শ্রেণী পেশার মানুষই জড়িয়েছিলেন এতে। তেমনি মাগুরার ছাত্রসমাজ এ সংবাদ জানার পর রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবিতে শহরে মিছিল বের করে।
উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা না থাকায় ২২ ফেব্রুয়ারি নড়াইল ছাত্রনেতাদের মাধ্যমে মাগুরার ছাত্ররা জানতে পারে ঢাকায় রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবিতে করা মিছিলে পুলিশ গুলি চালিয়েছে। দুপুরেই মাগুরা হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ প্রাঙ্গন থেকে ছাত্ররা মিছিল নিয়ে শহরের চৌরঙ্গী মোড়ে পৌঁছালে পুলিশ সেখানে বাধা দেয়। পুলিশি বাধা উপেক্ষা করে মিছিল করতে চাইলে পুলিশ কয়েকজন ছাত্রকে আটক করে। পরে দুই ঘণ্টা মাগুরা ট্রেজারি অফিসে বসিয়ে রেখে তাদেরকে ছেড়ে দেয়।
ওইদিন মাতৃভাষা বাংলার দাবিতে আন্দোলনে অংশ নিয়েছিলেন আমিনুল ইসলাম। কিন্তু, সংগ্রাম করলেও আজও তাকে দেয়া হয়নি স্বীকৃতি। এমনকি কেউ তার খবরও রাখেন না বলে অভিযোগ তার।
স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেন, সেসময় "রাষ্ট্র ভাষা বাংলা চাই" লেখা পোস্টার দেওয়ালে দেওয়ালে লাগিয়েছিলেন।
মাগুরার আরেক ভাষা সৈনিক হামিদুজ্জামান এহিয়া। ভাষা আন্দোলনে ছাত্রদেরকে সংগঠিত করায় বিশেষ ভুমিকা রাখেন তিনি। ঢাকায় ছাত্রহত্যার প্রতিবাদে মাগুরায় অনুষ্ঠিত প্রতিটি সভা-সমাবেশের উদ্দ্যোক্তা ও সংগঠক হিসেবে তিনি অসামান্য ভূমিকা পালন করেন। ১৯৫৪ সালে হামিদুজ্জামানের নেতৃত্বে মাগুরার নাকোল শ্রীপুর স্কুলে বাঁশ দিয়ে শহীদ মিনার নির্মাণ করে পুস্পস্তবক অর্পণ, শোক র্যা লি ও আলোচনাসভার মাধ্যমে শহীদ দিবস পালন করেন।
ভাষা আন্দোলনে বীরচিত ভূমিকার জন্য ১৯৫৪ সালে মার্চে হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী যশোর এসে হামিদুজ্জামান এহিয়াকে ডেকে নিয়ে কথা বলেন।
পরে, ২০০৬ সালের ১৯ আগস্ট ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেন তিনি। ভাষা আন্দেলনে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের জন্য সরকারিভাবে মাগুরার শ্রীপুরে একটি রাস্তার নামকরণ করা হয়েছে "ভাষা সৈনিক হামিদুজ্জামান এহিয়া সড়ক"।