আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ(ইউপি) নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে ৭০০ টিরও বেশি জায়গায় নিজেদের একক প্রার্থী নিশ্চিত করেছে বিএনপি। বাকি ইউনিয়ন পরিষদগুলোতে ছাড় দেয়া হয়েছে জোটের শরীকদের।
দলটির কেন্দ্রীয় নেতারা দেশ টিভিকে বলেন, মনোনয়নের ক্ষেত্রে কেন্দ্রের কোনো হস্তক্ষেপ ছিলো না। তৃণমূলের সুপারিশের ভিত্তিতেই প্রার্থীদের মনোনয়ন দেয়া হয়েছে।
যদিও মনোনয়ন না পাওয়া নিয়ে ক্ষুব্ধ অনেকে— অনেকেই আবার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন স্বতন্ত্রভাবে নির্বাচনে অংশগ্রহণের।
আগামী ২২ মার্চ অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে প্রথম দফার ভোটগ্রহণ। স্থানীয় সরকার নির্বাচন হলেও দলীয় মনোনয়ন ও প্রতীকে নির্বাচনে অংশ নিতে হবে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থীদের। ৭৩৯টি ইউনিয়নের মধ্যে বিএনপি ৭১৮ টিতে নিজেদের একক প্রার্থী নিশ্চিত করেছে বলে দলীয় সূত্র জানিয়েছে।
বাকি ২০টিতে ছাড় দেয়া হয়েছে জোটের শরীক দলগুলোকে— আর পৌরসভা নির্বাচনের মতো এবারো জামাতের সঙ্গে এখনো পর্যন্ত বনিবনা হয়নি বিএনপির।
বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, ‘তাদের কোথায় কে দাড়ায় নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন, সেটা জামাতের কেন্দ্রীয় নেতারাও সঠিকভাবে বলতে পারছে না।’
দলের ভাইস চেয়ারম্যান আবুদল্লাহ আল নোমান বলেন, ‘কোনো জায়গায় যদি আমাদের জোটের প্রার্থী শক্তিশালী হয়ে থাকে, স্থানীয়ভাবে আমাদের প্রার্থী নির্বাচন করতে বাধা নেই।’
মনোনয়ন পাওয়া নিয়ে সন্তোষ যেমন আছে তার বিপরীতে মনোনয়ন না পাওয়াদের ক্ষোভ-অসন্তোষও বিরাজ করছে তৃণমূল পর্যায়ে।
তবে, বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতারা বলছেন মনোনয়নের ক্ষেত্রে তৃণমূলের সুপারিশকেই প্রাধান্য দেয়া হয়েছে।
নোমান বলেন, ‘একজনে ধানের শীষের পক্ষে অর্থাৎ বিএনপির পক্ষে নির্বাচন করবে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে।’
গয়েশ্বর রায় বলেন, ‘কোথায় ২য় পর্যায়ে গুরুত্ব পেয়েছে আবার কোথাও প্রথম পেয়েছে, তৃণমূলের মতামত উপেক্ষে করে কেন্দ্র মনোনয়ন দেয়নি।’
দলীয় মনোনয়ন পাওয়া কারো প্রার্থিতা কোনো কারণে বাতিল হলে সেক্ষেত্রে বিকল্প চিন্তাও আছে বিএনপির।
তিনি আরো বলেন, দলের মনোনয়ন দিলাম তাকে যদি কোনো কারণে দোষী বানানো হয় তখন তাকে গুরুত্ব দিতে হবে।
আর দলের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে যারা স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন তাদের বিষয়ে তৃণমূলই ব্যবস্থা নেবে। এতে কেন্দ্র কোনো হস্তক্ষেপ করবে না বলে জানান নেতারা।