সর্বোচ্চ শুল্ক দেয়ার পরও যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাড়ছে পোশাক রপ্তানি। গত সাত মাসে এ বাজারে তৈরি পোশাক রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে প্রায় ১৩%। যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি ঘুরে দাড়ানো এবং বাংলাদেশের ভাবমুর্তি পুনরুদ্ধারের ফলে সেখানে রপ্তানি বাড়ছে বলে মনে করছেন ব্যবসায়ী ও বিশেষজ্ঞরা।
এর বাইরে অস্ট্রেলিয়া ও দক্ষিণ কোরিয়াসহ নতুন কিছু বাজারেও বেশ ভাল প্রবৃদ্ধি করছে বাংলাদেশ। এসব নতুন বাজারে স্থায়ীভাবে প্রবেশ করতে, কূটনৈতিক তৎপরতা বাড়ানোর পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
রানা প্লাজায় ধস এবং দেশে রাজনৈতিক অস্থিরতার ক্ষত কাটিয়ে, যুক্তরাস্ট্রের বাজারে আবারও ঘুরে দাড়িয়েছে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানি। প্রতিযোগী দেশগুলোর তুলনায় সবচেয়ে বেশি ১৬% শুল্ক দিয়েও দেশটির বাজারে চলতি অর্থবছরের প্রথম সাত মাসে রপ্তানি বেড়েছে ১২.৬%।
রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর তথ্যে দেখা যায়, ২০১৪-১৫ অর্থবছরের প্রথম সাত মাসে যুক্তরাষ্ট্রে পোশাক রপ্তানি হয়েছিল প্রায় সাড়ে ৭২ কোটি ডলার।যা আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় সাড়ে তিন শতাংশ কম। আর চলতি অর্থবছরের প্রথম সাত মাসে রপ্তানি হয়েছে প্রায় ৮৪ কোটি ডলার। যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিতে উন্নয়নের আভাস এবং বাংলাদেশের হারানো ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধার এ প্রবৃদ্ধির পেছনে বড় ভুমিকা রাখছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এর বাইরে অস্ট্রেলিয়া, চিলি, দক্ষিণ আফ্রিকা, মেক্সিকো এবং দক্ষিণ কোরিয়ার মত কিছু নতুন বাজারে দ্রুত বাড়ছে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি। ইপিবির তথ্যানুযায়ী চলতি অর্থবছরের প্রথম সাত মাসে অস্ট্রেলিয়ায় প্রবৃদ্ধি হয়েছে ২৬ শতাংশেরও বেশি।
চিলিতে ২১%, দক্ষিণ আফ্রিকায় ১৫.২৩%, মেক্সিকোতে প্রায় ২৩% এবং দক্ষিণ কোরিয়ায় প্রবৃদ্ধি হয়েছে প্রায় ১৪%। এসব বাজার নিয়মিত হতে দ্বিপাক্ষিক কুটনৈতিক তৎপরতা বাড়ানোর পরামর্শ বিশেষজ্ঞদের।
এ বাজারগুলোতে স্থায়ী হতে পারলে, ২০২১ সালে তৈরি পোশাক থেকে ৫০ বিলিয়ন ডলার রপ্তানি আয়ের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা অনেক সহজ হবে বলে মনে করছেন তারা।