ঘটনাবহুল এক-এগারো নিয়ে সংসদে দাবি উঠেছে ওই সময়ের কুশীলবদের চিহ্নিত করে বিচার করার। সুপ্রিম কোর্টের একজন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতিকে প্রধান করে এজন্য তদন্ত কমিশন গঠনের কথাও বলা হয়েছে। বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে কতটা গুরুত্বপূর্ণ-যুক্তিসংগত এ দাবি? আর কমিশন গঠিত হলে তার সুপারিশের ভিত্তিতে সরকার আদৌ কোনো ব্যবস্থা নিতে পারবে কি-না?
‘এক-এগারোর সরকার এক পর্যায়ে হয়তো কোনো বিদেশি শক্তির ডাকে সারা দিয়ে আওয়ামী লীগকে সমর্থন দিয়েছে এবং নির্বাচন নিয়ে অনেক প্রহসন হয়েছে। আর আওয়ামী লীগ যে ক্ষমতায় এসেছে, এ প্রতিশ্রুতি দিয়ে এসেছে যে তারা তাদের সকল কর্মকাণ্ডে বৈধতা দেবে যেটি বিএনপি নেত্রী দেননি বলে জানিয়েছেন সাবেক সেনা কর্মকর্তা বিএনপি দলের ভাইস চেয়ারম্যান হাফিজ উদ্দিন আহমেদ।’
দেশটিভিকে দেয়া একান্ত সাক্ষাতকারে তিনি এ কথা বলেন।
তবে কমিশন গঠনের পক্ষেই মত রয়েছে তার। হাফিজ বলেন, তদন্তে যে কোনো সামরিক-বেসামরিক বা যে দলের নেতাদেরই নাম আসুক তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া উচিৎ।
তবে এক-এগারো নিয়ে চলছে আওয়ামী লীগ-বিএনপির আলোচনাটি পরস্পরবিরোধী। তাদের নেতাদের বক্তব্যে একে অপরের সমালোচনা আর দোষারোপ। আওয়ামী লীগ বলছে, এক-এগারোর সৃষ্টি বিএনপির হাত ধরে। বিএনপির দাবি, সবকিছুর মূলে ছিলো আওয়ামী লীগই।
এক সভায় মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আওয়ামী লীগ বলেছিলো তারা যা করবে তার সবকিছুকেই বৈধতা দেয়া হবে। আজকে যখন তাদের আতে ঘা লেগেছে, তারা আক্রান্ত হচ্ছে এখন তারা এক-এগারোর জন্য যারা ঘটনা ঘটিয়েছে তাদের বিচার না করে আজকে তারা কথা বলেন।’
গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থায় একটি রাজনৈতিক সরকারের মেয়াদ শেষে নির্বাচনের মধ্য দিয়ে ক্ষমতার পালাবদলের স্বত:সিদ্ধ বিধানটাই ভুলুণ্ঠিত হয়েছিল যখন দৃশ্যপটে এলো এক-এগারো। চেপে বসলো জরুরি অবস্থা, আর সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক শাসন, এজেন্ডা মাইনাস টু ফর্মূলা। ২০০৭-০৮ সালের এক-এগারোর ওই ঘটনা-পরম্পরায় জেলে যেতে হয়েছে শেখ হাসিনা, খালেদা জিয়াসহ অনেক রাজনীতিককেই।
ঘটনার ৭ বছর বাদে আবারো আলোচনায় সেই ওয়ান ইলেভেন। সরগরম রাজনৈতিক অঙ্গন। আলোচনা হয়েছে সংসদেও। দাবি কুশীলবদের চিহ্নিত করে বিচার। সামনে এসেছে সুপ্রিম কোর্টের একজন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতিকে প্রধান করে তদন্ত কমিশন গঠনের প্রসঙ্গ।
কথা বলছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াও।
এ নিয়ে যখন চলছে রাজনৈতিক তর্ক-বিতর্ক তখন বিএনপি নেতারা বলছেন এক-এগারোর উত্থানে বিএনপির কোনো দায় নেই, এসবই আওয়ামী লীগেরই সৃষ্টি। আর এখনকার আওয়ামী লীগ এক-এগারোর সুফল ভোগ করছে-টিকে আছে রাষ্ট্রক্ষমতায়। তারা চাইছেন, বিচার হোক প্রকৃত অপরাধীদের। বিচার যেন রাজনৈতিক প্রতিহিংসার না হয়। এক-এগারো নিয়ে ধারাবাহিক প্রতিবেদনের এটি পঞ্চম পর্ব।