আগামী অর্থবছরে প্রায় ৩ লাখ নতুন করদাতাকে করের আওতায় আনার লক্ষ্য জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর)। এ জন্য বাজেটে এবার করমুক্ত আয়ের সীমা বাড়ানো হচ্ছে না। তবে ব্যবসায়ীদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে সবার জন্য ১৫% মূসক কার্যকরের পরিকল্পনা থেকে সরকার সরেও আসতে পারে।
ঘোষণা আসতে পারে পরোক্ষ করের আওতা বাড়াতে ১ হাজার ৯৭৩টি পণ্যের ওপর থেকে মূসক অব্যাহতি সুবিধা উঠিয়ে দেয়ার। আর করপোরেট কর হার বাড়তে পারে ব্যাংক-বীমা এবং তৈরি পোশাকসহ কয়েকটি শিল্পে।
আগামী বাজেটে আর্থায়নে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে সংগ্রহ করতে হবে ২ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে আয়কর থেকে ৭৩ হাজার কোটি টাকা, মূসক থেকে ৭৪ হাজার কোটি এবং আমদানি-রপ্তানি শুল্ক থেকে ৫৭ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আদায়ের পরিকল্পনা সরকারের।
আয়কর আদায় বাড়াতে করমুক্ত আয়ের সীমা আড়াই লাখ টাকা থেকে আর বাড়ানো হচ্ছে না। জেলা-উপজেলা পর্যায়ে কর অফিস স্থাপনের পরিকল্পা করছে সরকার। গ্রাম পর্যায়ে আয়কর দাতার সংখ্যা বাড়ানোর জন্য বিশেষ আভিযান পরিচালনার ঘোষনাও থাকছে বাজেটে।
এর মূসক আদায় বাড়াতেও থাকছে বিশেষ উদ্যোগ— প্রায় ২ হাজার পণ্যের উপর থেকে মূসক অব্যাহতি সুবিধা উঠিয়ে দেয়ার ঘোষনাও আসছে আগামী বাজেটে। বিদ্যুৎ বিলসহ বিভিন্ন সেবার উপর ৫ শতাংশ থেকে মূসক বাড়ানো হচ্ছে ১৫% পর্যন্ত।
এছাড়াও প্রায় সব ধরণের ভোগ্য পণ্যের উপরও মূসক নির্ধারণ করা হতে পারে ১৫%। এসি, ফ্রিজ, টেলিভিশন এবং বিভিন্ন ধরণের প্রসাধনী পণ্যে বাড়ছে আমদানি শুল্ক।
সরকারের এসব সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে বিদ্যুৎ ও গ্যাস বিল বাবদ ব্যয় বাড়বে ১০%। সব মিলিয়ে পারিবারিক বাজেটে একটি বাড়তি ব্যয়ের চাপ আসতে পারে আগামী বাজেট ঘোষণায়।
অর্থমন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, সবার জন্য ১৫% মূসক নির্ধারণের সিদ্ধান্ত থেকে শেষ পর্যন্ত সরে আসতে পারেন অর্থমন্ত্রী। ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প এবং ব্যবসার জন্য আগের মতই প্যাকেজ মূসক সুবিধা বহাল রাখার ইঙ্গিত মিলেছে অর্থমন্ত্রণালয় থেকে।
এটা করা হলে পারিবারিক বাজেটের উপর থেকে বাড়তি ব্যায়ের চাপ কিছুটা হলেও কমবে বলে আশা সাধারণ মানুষের।
এছাড়াও বাজেটে বাড়তে পারে করপোরেট করের হারও— ব্যাংক-বীমা ও টেলিকম খাতে কর বাড়তে পারে ২ থেকে আড়াই শতাংশ। আর তামাকজাত পণ্যের ক্ষেত্রেও কর বাড়ছে ৮% থেকে ১০%।
তৈরি পোশাক খাতের করপোরেট কর হার ১০% থেকে বাড়িয়ে ১৫% নির্ধারণ হতে পারে। উৎসে কর .৫% থেকে বাড়িয়ে .৮% করা হতে পারে।