সরকারি ব্যাংকগুলোর মূলধন ঘাটতি মেটাতে আসন্ন বাজেটে বরাদ্দ রাখা হচ্ছে ২ হাজার কোটি টাকা। চলতি অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটেও এ খাতে বরাদ্দ ছিল প্রায় ১,৮০০ কোটি টাকা।
অর্থ মন্ত্রণালয় সুত্রে জানা গেছে, সরকারি ব্যাংকের দক্ষতা বাড়াতে সংস্কার কর্মসূচির অংশ হিসেবেই এ উদ্যোগ। এটি বাস্তবায়িত হলে, আগামীতে মুলধন ঘাটতি আরও কমে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।
তবে করের টাকায় সরকারি ব্যাংকের অনিয়ম ও দুর্নীতির ঘাটতি না মিটিয়ে— একটি রেখে বাকি ব্যাংকগুলো বেসরকারি খাতে ছেড়ে দেওয়ার পরামর্শ দিলেন ব্যবসায়ীরা। আর সরকারি এ ব্যাংকগুলোর সমস্যাকে রাজনৈতিক হিসেবে উল্লেখ করে, অনেক অর্থনীতিবিদ একে রাজনৈতিকভাবেই মোকাবেলার পরামর্শ দিয়েছেন।
২০১৫ সাল শেষে দেশের সরকারি খাতের ৬টি ব্যাংকের মূলধন ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ১৩ হাজার ৪৭১ কোটি টাকায়। উদ্বেগের বিষয় হচ্ছে এ ঘাটতির পরিমাণ ক্রমান্বয়ে বাড়ছে।
বাজেটে বিশেষ বরাদ্দ দিয়ে গত কয়েক বছর ধরেই এ ঘাটতি মেটাতে হচ্ছে। চলতি অর্থবছরেও এ খাতে বরাদ্দ রাখা হয়েছে প্রায় ১, ৮০০ কোটি টাকা আর আগামী অর্থবছরে বরাদ্দ ২ হাজার কোটি টাকা।
ব্যবসায়ী নেতারা মনে করছেন, খেলাপী ঋণ, অনিয়ম আর দূর্নীতির কারণে সরকারি ব্যাংকগুলোর মূলধন ঘাটতি বাড়ছে। তাই জনগণের করের টাকা দিয়ে এ ঘাটতি পুরণ করাকে অনৈতিক মনে করছেন তারা।
তবে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে একমত নন অনেক অর্থনীতিবিদ। তাদের মতে, সরকারি ব্যাংকগুলোর এসব অনিয়ম ও দুর্নীতির জন্য দায়ী রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ। বন্ধ না করে রাজনৈতিকভাবেই এ সমস্যার সমাধান সম্ভব বলে তারা মনে করেন।
সবচেয়ে বেশি মূলধন ঘাটতি রয়েছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের, ৬ হাজার ৮১৮ কোটি টাকা। এরপরেই সোনালী ব্যাংক, ৩ হাজার ৮০১ কোটি টাকা। বেসিক ব্যাংকের ১ হাজার ৭৭৭ কোটি, রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংকের ৭৮১ কোটি, রূপালী ব্যাংকের ২৪৫ কোটি এবং জনতা ব্যাংকের মূলধন ঘাটতি রয়েছে ৪৯ কোটি টাকা।