দেশের সব মাদ্রাসায় জাতীয় পতাকা উত্তোলনের নির্দেশনা থাকলেও রাজধানীর কওমী মাদ্রাসাগুলোতে পতাকা উড়তে দেখা যায়নি। তবে মাদ্রাসার শিক্ষকরা বলছেন, প্রতিদিন উত্তোলন না করলেও বিজয় দিবস, স্বাধীনতা দিবসে পতাকা উত্তোলন করা হয়।
কওমী মাদ্রাসা শিক্ষা নিয়ে বিভিন্ন মহল জনমনে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে—উল্লেখ করে তিনি আরো বলেন, নূন্যতম অস্টম শ্রেণী পর্যন্ত তারা ইসলাম শিক্ষার পাশাপাশি সাধারণ জ্ঞান শিক্ষার্থীদের দিয়ে থাকেন। এ শিক্ষা ব্যবস্থা থেকে সন্ত্রাসের পথে যাবার কোনো সুযোগ নেই।
গতকাল রোববার রাজধানীর আয়োজিত অনুষ্ঠানে মাদ্রাসা শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে বক্তব্যে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ কোনো মাদ্রাসায় জাতীয় পতাকা উত্তোলন না করা হলে জঙ্গি প্রতিরোধ কমিটিকে জানানোর নির্দেশ দেন।
কিন্তু তার একদিন পর, সোমবার রাজধানীর বেশ কিছু কওমী মাদ্রাসা ঘুরে কোনটিতেই জাতীয় পতাকা উত্তোলনের দৃশ্য দেখা যায়নি।
এ প্রসঙ্গে মোহাম্মদপুরের জামিআ রাহমানিয়া আরাবিয়া মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা মাহফুজুল হক বলেন, তাদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে জাতীয় পতাকা উত্তোলনে কোনো বাধ্য-বাধকতা নেই। প্রতিদিন না করলেও বিশেষ বিশেষ দিবসে তারা জাতীয় পতাকা উত্তোলন করে থাকেন।
স্বাধীনতার ইতিহাস সম্পর্কে মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের জ্ঞানের সীমাবদ্ধতা রয়েছে— উল্লেখ করে তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস কিংবা দেশের সামগ্রিক ঐহিত্য সংস্কৃতির সঙ্গে তাদের শিক্ষা ব্যবস্থার ফারাক থাকলেও একজন প্রকৃত মানুষ হতে যে শিক্ষার দরকার হয়, সে শিক্ষাই কওমী মাদ্রাসা থেকে শিক্ষার্থীরা পেয়ে থাকেন।
তবে আলিয়া মাদ্রাসার চিত্র ভিন্ন, সরকারের নিয়ন্ত্রণে থাকায় সব ধরনের নিয়ম-নীতি পালনের কথা জানিয়েছে অধ্যাপক সিরাজ উদ্দীন আহমেদ।
দেশের সব কওমী মাদ্রাসা সরকারের আওতায় থাকার পক্ষে মত ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক শামিম মহম্মদ আফজাল বলেন, এখনই উদ্যোগ না নিলে যে উদ্দেশ্যে কওমী মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল, সেই প্রকৃত ইসলামীক শিক্ষা থেকে পথ হারাবে এ শিক্ষা ব্যবস্থা।
এদিকে, দেশে বর্তমানে কতগুলো কওমী মাদ্রাসা রয়েছে, তার সঠিক পরিসংখ্যান পাওয়া যায়নি। তবে সরকারিভাবে চার হাজারের কথা বলা হলেও বেসরকারিভাবে এর সংখ্যা ১৫ হাজারের মতো বলে জানা গেছে।