মুক্তিযুদ্ধ, স্বাধীনতার ইতিহাস জানে না কওমী মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা—জাতীয় সংগীত গায়না তারা, উত্তোলন হয় না জাতীয় পতাকা। আর জানে না অন্যান্য ইতিহাসও। ফলে দেশের প্রচলিত শিক্ষা ব্যবস্থা থেকে আলাদা থাকা কওমী মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা হারাচ্ছেন উচ্চ শিক্ষার সুযোগ। এমন তথ্য দিয়েছেন গবেষক বিশ্লেষকেরা।
এজন্য কয়েক লাখ নতুন প্রজন্ম প্রকৃত শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে বলেও মত দিয়েছেন তারা। আর সংশ্লিষ্টরা বলছেন, একজন প্রকৃত মানুষ হতে যতটা শিক্ষার দরকার সে শিক্ষাই এখান থেকে শিক্ষার্থীরা পেয়ে থাকেন।
ইসলাম ধর্ম শিক্ষা দেয়ার উদ্দেশ্য নিয়ে ১৮৬৬ সালে ভারতের দেওবন্দ থেকে কওমী মাদ্রাসার যাত্রা শুরু। বর্তমানে ভারত-পাকিস্তান-বাংলাদেশ এই তিন দেশেই মুসলিম সমাজে ব্যাপক জনপ্রিয় এই শিক্ষা ব্যবস্থা। সরকারি হিসেবে কওমী মাদ্রাসার সংখ্যা তিন থেকে চার হাজার হলেও বেসরকারি সূত্রের তথ্যে এই সংখ্যা অন্তত ১৫ হাজার। দীর্ঘদিন ধরেই কওমী শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে বিভিন্ন মহলে।
গবেষক, ইতিহাসবিদ, শিক্ষাবিদদের মতেও কওমী শিক্ষা ব্যবস্থা ভবিষ্যত প্রজন্মের জন্য যথেষ্ট না।
মুফতি রুহুল আমীন বলেন, ইসলাম শিক্ষার বাইরে সাধারণ বিষয়ে তেমন কোনো ধারনা শিক্ষার্থীদের দেয়া হয় না এসব মাদ্রাসায়।
এদিকে, সম্প্রতি একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি ১ হাজার কওমী মাদ্রাসার ওপর গবেষণা চালায়।
এ প্রসঙ্গে সংগঠনটির সভাপতি শাহরিয়ার কবীর বলেন, মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত ইতিহাস থেকে অনেকটাই বিচ্ছিন্ন কওমী মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা। তাদেরকে জানানো হচ্ছে ভুল তথ্য আর শিখছে অন্য ইতিহাস।
এমন বক্তব্যের সমালোচনা করে কওমী মাদ্রাসা সংশ্লিষ্ট্ বলেন, কোনো কওমী মাদ্রাসা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড শিক্ষা দেয় না বরং সাধারণ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকেই সন্ত্রাসী বের হচ্ছে।
কওমী মাদ্রাসার শিক্ষা কার্যক্রম খতিয়ে দেখতে ২০১৩ সালে সরকার একটি কমিটি গঠন করে। সরকারের কাছে কয়েকটি সুপারিশ করে কমিটি। কমিটির কো-চেয়ারম্যান ফরিদ উদ্দীন মাসউদ বলেন, হেফাজতের আন্দোলনের মুখে সে সুপারিশ স্থগিত হয়ে যায়।
সম্প্রতি দেশের জঙ্গিদের সহিংস কর্মকাণ্ড মাদ্রাসা শিক্ষাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে তুলেছে।