রাজধানীর প্রায় দেড় কোটি মানুষের জন্য গণপরিবহন ব্যবস্থায় চলছে মাত্র ছয় হাজার বাস। যার অধিকাংশেরই নেই ফিটনেস। অন্যদিকে, যে ১০% কম বিআরটিসির বাস রয়েছে, তারও অধিকাংশই নষ্ট হয়ে পড়ে আছে ডিপোতে।
তীব্র যানজটে রাজধানীর ২০৮ নম্বর রুটে যেসব বাস চলাচল করতো এর মধ্যে ১৪০টি প্রতিষ্ঠান লোকসান দেখিয়ে যাত্রী পরিবহন বন্ধ করে দিয়েছে।
পাশাপাশি কমে যাচ্ছে ছোট যানবাহন। যদিও বাড়ছে ব্যক্তিগত গাড়ির সংখ্যা। ফলে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ দিন দিন বেড়েই চলেছে।
যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, ‘প্রতিদিন ২০০-২৫০টি প্রাইভেটকার রাস্তায় নামে। এতো প্রাইভেটকার আপনি রাস্তায় নামতেই দিবেন, আর এদিকে যে গাড়িগুলো জনগণকে সার্ভিস দিবে তা নামতে বাধা থাকলে যানজট কোনোভাবেই কমবে না। ’
গণপরিবহনের ক্ষেত্রে বাসের পরে সাধারণ মানুষের উপযোগী যানবাহন বলতে সিএনজি বা অটোরিক্সাই ভরসা। তবে দীর্ঘ এক যুগেও নতুন করে সিএনজি'র অনুমোদন না দেয়ায় এর সংখ্যা নেমেছে ১ শতাংশের নিচে । বর্তমানে ঢাকার রাস্তায় যে ৮ হাজার অটোরিক্সা চলছে সেগুলোরও মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে বছর তিনেক আগে। অন্যদিকে, দফায় দফায় ভাড়া বৃদ্ধির কারণে সিএনজিওচালিত অটোরিক্সাও এখন সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে।
নগরীতে বাসের পাশাপাশি জরুরি হয়ে পড়েছে পরিবেশসম্মত ছোট যানবাহন নামানোও বলে মনে করেন মোজাম্মেল হক।
যানজটের দুর্ভোগ থেকে রাজধানীবাসীকে মুক্তি দিতে প্রাইভেট কারের চলাচল কমিয়ে বাস ও সাধারণ মানুষের উপযোগী ছোট যানবাহন নামানোর পরামর্শ দিয়েছেন যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ সারোয়ার জাহান।
এদিকে, ২০০২ সালে ক্ষতিগ্রস্ত ট্যাক্সিক্যাব সংশ্লিষ্টদের আদালতে দায়ের করা রীটের রায়ের পরিপ্রেক্ষিতে রাজধানীতে ৫ হাজার সিএনজি অটোরিক্সা নামানোর যে সিদ্ধান্ত সরকার নিয়েছিল, সে উদ্যোগও তিন বছর ধরে আটকে রয়েছে বলে জানান অটোরিক্সা সি.এন.জি চালক সমবায় ফেডারেশনের রিট আবেদনকারী মো. আশরাফুল আলম।