আদালতের নির্দেশ থাকলেও এই তিন বছরেও রাজধানীতে সিএনজি চালিত অটোরিকসা নামানোর ক্ষেত্রে কোনো সিদ্ধান্তেই পৌঁছাতে পারেনি সরকার।
সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে, বিভাগে, ফাইল চালাচালি আর মতামতের মধ্যেই থমকে আছে সে উদ্যোগ।
সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের জানিয়েছেন, রাজধানীর যানজট কমাতে নতুন করে আর কোনো সিএনজি অটোরিকসার অনুমোদন দেয়া হচ্ছে না। তবে গণপরিবহনে যুক্ত হবে নতুন বাস।
কিন্তু, রাজধানীর জন্য গণপরিবহনের ক্ষেত্রে বাসের পাশাপাশি ছোট যানবাহন নামানোর জোর সুপারিশ করেছেন যোগাযোগ বিশ্লেষকরা।
তারা জানিয়েছেন, বাস কখনোই সিএনজি-অটোরিকসার বিকল্প হতে পারে না।
সরকারি হিসাবে রাজধানীতে বসবাসকারি প্রায় দেড়কোটি মানুষের মধ্যে ব্যক্তিগত গাড়ি রয়েছে ২৩ শতাংশের। বাকি ৭৭ শতাংশ রাজধানীবাসীকে যাতায়াতের জন্য নির্ভর করতে হয় বাস, নয়তো সিএনজিচালিত অটোরিকসার কিংবা রিকসার ওপর।
কিন্তু, গণপরিবহন হিসেবে যতোগুলো বাস রাজধানীতে চলে চাহিদার তুলনায় তা একেবারেই কম হওয়ায় সাধারণ মানুষকে সিএনজি-চালিত অটোরিকসার ওপরই বেশি নির্ভর করতে হয়। কিন্তু এর সংখ্যাও ক্রমশ শূন্যের দিকেই এগোচ্ছে।
পরিবেশ দূষণের কারণ দেখিয়ে ২০০২ সালে দুই স্ট্রোক ইঞ্জিনের বেবিট্যাক্সি তুলে নেয় সরকার, আর ক্ষতিগ্রস্ত চালকদের পুনর্বাসনে সংবাদপত্রে বিজ্ঞপ্তি দিয়ে, নতুন করে সবুজ রঙের সিএনজি চালিত অটোরিকসা অনুমোদনের সিদ্ধান্ত নেয়। কিন্তু সরকার ওইসময় ১৩ হাজার অটোরিকসার অনুমোদন দিলেও এর একটিও প্রকৃতপক্ষে ক্ষতিগ্রস্তদের দেয়া হয়নি।
একপর্যায়ে ক্ষতিগ্রস্ত চালকরা আদালতে রিট করেন এবং এ রিটের রায়ের পরিপ্রেক্ষিতে ২০১৩ সালে ৫ হাজার অটোরিকসা নামানোর উদ্যোগ নেয় সরকার। কিন্তু তিন বছরেও তা কার্যকর হয়নি।
স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়, সড়ক বিভাগ, পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষসহ একাধিক প্রতিষ্ঠানের মতামত নিতে গেলে তিন বছরে সে ফাইল এখন পৌঁছেছে দুই সিটি করপোরেশনে। আর এদিকে, এ অটোরিকসাই রাজধানীতে যানজটের কারণ উল্লেখ করে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের জানিয়েছেন, নতুন করে এখন আর সিএনজি চালিত অটোরিকসার অনুমোদন দেয়া হবে না।
তিনি বলেন, ‘ঢাকা এবং চট্টগ্রাম সিটিতে সিএনজি চালিত অটো রিকসার অনুমোদন দেয়া যাবে না। নতুন করে যদি আঅনোমদন দেয়া হয় তালে বসতে অনুপযোগী হয়ে যাবে। নতুন করে আমরা সিএজি দেয়ার বিপক্ষে।’
যানজট প্রসঙ্গে মন্ত্রীর এ বক্তব্যে দ্বিমত পোষণ করে যোগাযোগ-বিশ্লেষক ড. সারওয়ার জাহান বলেন, ভুল নীতির কারণেই রাজধানীর যানজট কমছে না।
ক্ষতিগ্রস্ত অটোরিকসা সিএনজি চালক সমবায় ফেডারেশনের নেতা মহাসচিব মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, বাস কখনই ছোট যানবাহনের বিকল্প হতে পারে না।
অটোরিকসা সি.এন.জি চালক সমবায় ফেডারেশনের পক্ষে আদালতে রিট আবেদনকারী মো. আশরাফুল আলম বলেন, সরকার এ বিষয়ে দ্রুত ইতিবাচক সিদ্ধান্ত না নিলে প্রয়োজনে আবারও আদালতে যাবেন তারা।
তিনি বলেন, বিআরটিএ প্রতিদিন তারা ৮০০ গাড়ির রেজিস্ট্রেশন দিচ্ছে, সেগুলোকি যানজট সৃষ্টি করে না। আমরা যারা কর দিয়ে গাড়ি চালাই তারাই যানজট সৃষ্টি করে বলে প্রশ্ন রাখে তিনি বলেন আমাদের গাড়িগুলোই কি যানজট সৃষ্টি করে মন্ত্রী মহোদযের কাছে। আমরা আইনি প্রক্রিয়ায় চলে যাব।’
এদিকে, জনগুরুত্বের বিষয়টি বিবেচনা করে রাজধানীতে সাধারণ মানুষের সুবিধার প্রয়োজনে ছোট যানবাহন নামানোর অনুরোধ জানিয়েছেন ঢাকা অটোরিকশা শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ হানিফ।