বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) নতুন কমিটি নিয়ে দলের মধ্যে ক্ষোভ-অসন্তোষ তুঙ্গে—যদিও বিক্ষুব্ধরা গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলতে চাইছেন না আবার এরইমধ্যে পদপ্রাপ্ত অনেকেই ছেড়েছেন দলীয় পদ।
নবগঠিত কমিটি দিয়ে সরকারবিরোধী আন্দোলন তো দুরে থাক, দলকেই সংগঠিত করা সম্ভব হবে কি না-এ নিয়েও সংশয়ে নেতাকর্মীরা।
তবে বিশ্লেষকরা বলছেন, নাজুক অবস্থা থেকে ঘুরে দাঁড়াতে মূল্যায়ন করতে হবে ত্যাগীদের। পরিবারতন্ত্রের উর্দ্ধে উঠে গণতন্ত্রের চর্চা করতে হবে দলের অভ্যন্তরে।
নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের চিত্র দেখে বোঝার উপায় নেই যে মাত্র কয়েকদিন আগেই দলটির সর্বোচ্চ নীতি নির্ধারণী ফোরামের জাতীয় স্থায়ী কমিটি ও কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটি ঘোষিত হয়েছে। কাউন্সিলের সাড়ে ৪ মাস পর এ কমিটি ঘোষণায় যেখানে নেতাকর্মীদের প্রাণ চাঞ্চল্য থাকার কথা, সেখানে একেবারেই নিষ্প্রাণ বিএনপির নয়াপল্টন কার্যালয়।
প্রায় ৬০০ সদস্যের বিশাল কমিটি গঠনের পরও এ নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা চলছে নানা মহলে। নতুন কমিটিতে রাখা হয়েছে যুদ্ধাপরাধের দায়ে দন্ডপ্রাপ্তদের সন্তানদের।
দলের জ্যেষ্ঠ নেতাদের আত্মীয়-স্বজন, স্ত্রী-পুত্রদের অনেকেরই ঠাঁই হয়েছে নতুন কমিটিতে- এ অভিযোগের পাশাপাশি পদায়নের ক্ষেত্রে জ্যেষ্ঠতা লঙ্ঘনের কারণে অনেকেই পড়েছেন বিব্রতকর পরিস্থতিতে।
দলে দেখা দিয়েছে ক্ষোভ, অসন্তোষ— কমিটি নিয়ে ব্যক্তিগত ক্ষোভের কথা জানালেও ক্যামেরার সামনে কথা বলতে চাননি অনেকেই।
চট্টগ্রামের প্রভাবশালী নেতা আব্দুল্লাহ আল নোমানকে এবারও স্থায়ী কমিটিতে জায়গা না দেয়ায় সমালোচনা-ক্ষোভ চলছে। তিনি পদত্যাগ করতে পারেন, আছে এমন গুঞ্জনও। তবে কমিটিতে কিছু ভুল-ভ্রান্তি আর এ নিয়ে দলের অভ্যন্তরে ক্ষোভের বিষয়টি অকপটেই স্বীকার করছেন নেতারা।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, ‘সীমাবদ্ধতার কারণে তাদের দলে জায়গা হয়নি।’
ক্ষোভ আর অসন্তোষ থাকলেও এ কমিটির আর রদবদল হবে না— পদবঞ্চিতদের আগামী কাউন্সিল পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে বলে সাফ জানিয়েছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
তিনি বলেন, ‘ক্ষোভ আর অসন্তোষ প্রকাশ করে লাভ হবে না বরং ধৈর্য ধরতে হবে। এ মুহূর্তে দলে রদবদলের কোনো প্রশ্নই আসে না। যদি মনেকরি আমি বঞ্চিত হয়েছি তাহলে আমার উচিত হবে অপেক্ষা করা আগামী কাউন্সিল পর্যন্ত।’
বিএনপির নতুন কমিটিকে কিভাবে মূল্যায়ন করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা? এমন প্রশ্নের জবাবে রাজনৈতিক বিশ্লেষক সাংবাদিক আমানুল্লাহ কবির বলেন, ‘দলে অনেকেই সঠিকভাবে পদায়ন ও মূল্যায়ন করা হয়নি। বিএনপির বেশ কিছু প্রভাবশালী নেতার আত্ময়-স্বজন দলে ঢুকে দলকে বড় করেছে বটে তবে ক্ষোভটা কিন্তু কমেনি।’
সরকারবিরোধী আন্দোলনে সফলতা পেতে বিএনপিকে কিছু পরামর্শ দিয়ে আমানুল্লাহ কবির আরো বলেন, ‘৬০০ মানুষকে কী বিএনপি রাস্তায় নামাতে পাবে? যদি নামাতে পারতো তাহলে কিন্তু বিশাল একটি মিছিল হতো। পরিবার তন্ত্রের কারণেই কিন্তু এ দলগুলোর মধ্যে যে গণতান্ত্রিক চর্চা হয় এ দাবি করতে পাবে না।’
এছাড়াও তাদের পরামর্শ; ভবিষ্যতের রাজনীতি বিবেচনায় ঢাকা এবং লন্ডনের নেতৃত্বের দূরত্ব ঘোচানোর।
সিন্ডিকেটভিত্তিক রাজনীতি; দলের নেতাকর্মীদের ক্ষোভ আর পরিবর্তিত প্রেক্ষাপটে বিএনপি ভবিষ্যতে কিভাবে রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করে সেটাই এখন দেখার বিষয়।