রোহিঙ্গা ইস্যুতে মিয়ানমারের উপর চাপ না দিয়ে বাংলাদেশকে সীমান্ত খুলে দেয়ার আহ্বান জানিয়ে জাতিসংঘ—এ ক্ষেত্রে একতরফা ভূমিকা পালন করছে বলে মন্তব্য করেছেন বিশ্লেষকরা। আর রাজনৈতিক অবস্থান ধরে রাখতেই অং সান সুচি এ ব্যাপারে বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখছেন না বলেও মনে করছেন তারা।
সমস্যাটি সমাধানে দেশটির উপর কূটনৈতিক চাপ দেয়ার পরামর্শ তাদের।মঙ্গলবার দেশ টিভিকে দেয়া একান্ত সাক্ষাতকারে এসব কথা তুলে ধরেন তারা।
এদিকে, সাম্প্রতিক রোহিঙ্গা নির্যাতন নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্মান খান কামাল জানিয়েছেন, জাতিসংঘের মাধ্যমে মিয়ানমারকে এ ব্যাপারে কূটনৈতিক চাপ দেবে বাংলাদেশ।
সম্প্রতি মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে নতুন করে রোহিঙ্গা নির্যাতনের ঘটনায় বাংলাদেশের সীমান্ত দিয়ে তাদের অনুপ্রবেশের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। কদিন ধরেই তাই সীমান্তে কড়া নজরদারিতে রয়েছে বিজিবি। যদিও নির্যাতিত রোহিঙ্গাদের অনুপ্রবেশের অনুমতি দিয়ে সীমান্ত খুলে দেয়ার আহ্বান জানিয়েছে জাতিসংঘ।
মঙ্গলবার রাজধানীতে এক অনুষ্ঠান শেষে রোহিঙ্গা নির্যাতনের ঘটনায় উদ্বেগের কথা জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। সংকট নিরসনে জাতিসংঘের মাধ্যমে দেশটিকে কূটনৈতিক চাপ দেয়া হবে বলেও জানান তিনি।
তবে, বিশ্লেষকরা মনে করছেন, মিয়ানমারকে সরাসরি চাপ না দিয়ে শুধু বাংলাদেশকে সীমান্ত খুলে দেয়ার আহ্বান জানিয়ে একতরফা আচরণ করছে জাতিসংঘ।
আর রাজনৈতিক অবস্থান ধরে রাখতেই অং সান সুচি এ ইস্যুতে স্পষ্ট ভূমিকার রাখছেন না বলেও সমালোচনা করেন রাজনৈতিক বিশ্লেষক আবুল কাশেম ফজলুল হক ও নিরাপত্তা বিশ্লেষক ইশফাক ইলাহী।
এ বিষয়ে দ্বিপাক্ষিক আলোচনার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক চাপ প্রয়োগের উপরও জোর দেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষক ড. দেলোয়ার হোসেন ও নিরাপত্তা বিশ্লেষক ইশফাক ইলাহী।