সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণ থেকে ভাস্কর্য অপসারণের জন্য হেফাজতে ইসলামের দাবি সম্পূর্ণ অযৌক্তিক বলে অভিমত আইনজ্ঞ ও বিশিষ্টজনদের।
বক্তাতা বলেন, হেফাজতের অনেক নেতাই মুক্তিযুদ্ধের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধের সঙ্গে জড়িত ছিলেন তাই সেই দায় এড়াতেই এ ধরণের অযৌক্তিক দাবি তুলছে তারা।
বিষয়টি নিয়ে যাতে কোনো ধরণের বিশৃঙ্খলা না হয় সেজন্য সরকারসহ সর্বোচ্চ আদলতকে কঠোর হওয়ার আহ্বান জানান তারা।
রোমান যুগের ন্যায় বিচারের প্রতীক 'লেডি জাস্টিসের' আদলে সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে সম্প্রতি একটি ভাস্কর্য স্থাপন করা হয়েছে। ভাস্কর্যটি গ্রিকদের কাছে পরিচিত দেবি থেমিস হিসেবে। "ইসলামবিরোধী" আখ্যায়িত করে শুরু থেকেই এটি সরিয়ে নেয়ার দাবি জানিয়ে আসছে হেফাজতে ইসলাম।
শনিবার চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে দলটির পক্ষ থেকে বলা হয়, গ্রিক দেবীকে ন্যায়বিচারের প্রতীক মনে করলে এদেশে ইসলাম থাকবে না। ওই ভাস্কর্য অপসারণের দাবিতে প্রধানমন্ত্রী ও প্রধান বিচারপতি কাছে স্মারকলিপি দেয়া ও প্রয়োজনে বৃহত্তর আন্দোলনের ঘোষণা দেয়া হয় হেফাজতের পক্ষ থেকে।
হেফাজতের এই দাবি সম্পূর্ণ মনগড়া- বলে মনে করেন সাবেক আইনমন্ত্রী ব্যারিস্টার শফিক আহমেদ।
তিনি জানান, ন্যায়বিচারের প্রতীক হিসেবেই এটি সর্বোচ্চ আদালত প্রাঙ্গণে স্থাপন করা হয়েছে, কারো অনুভূতিতে আঘাত করতে নয়।
এদিকে, দেশে আরেকবার বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির জন্যই হেফাজত এ ধরণের কর্মসূচি দিচ্ছে বলে অভিযোগ করেন একত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সভাপতি শাহরিয়ার কবির।
সরকার ও উচ্চ আদলতকে বিষয়টি কঠোরভাবে মোকাবেলা করার তাগিদ দেন তিনি।