রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে যৌথভাবে সীমান্ত পরিদর্শন, সীমান্ত প্রহরা এবং সশস্ত্র হামলাকারীদের বিরুদ্ধে যৌথ-অভিযান পরিচালনা- এ তিন প্রস্তাব মিয়ানমার সরকারকে দিয়েছে বাংলাদেশ।
এ দ্বিপাক্ষিক তৎপরতা ছাড়াও এ সমস্যা আন্তর্জাতিকভাবে সমাধানেরও চেষ্টা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম।
দেশ টিভিকে দেয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে রোহিঙ্গা ইস্যু বাংলাদেশের অর্থনীতি, নিরাপত্তা, পর্যটনসহ অভ্যন্তরীণ নানা সমস্যার সৃষ্টি করছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সরকার বিষয়টিকে বিশেষ প্রাধান্য দিয়ে সমাধানের চেষ্টা চালাচ্ছে।
রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী-বিরোধী মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে পরবর্তী সেনাবাহিনী এবং পুলিশি নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে রোহিঙ্গারা মাতৃভুমি ছেড়ে সহায় সম্বল রেখে বাংলাদেশে ছুটছে। আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থাসহ বিভিন্ন সূত্র বলছে, গত কয়েকদিনে নো-ম্যান্স ল্যান্ড বা জিরোলাইনে মিয়ানমার থেকে প্রায় ৭০ হাজার রোহিঙ্গা বাংলাদেশে ঢুকে পড়েছে।
মানবিক দৃষ্টিকোণ বিবেচনায় বাংলাদেশ হাজার হাজার রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিলেও এখন আর পারছে না। তাই এ পরিস্থিতি সামাল দিতে মিয়ানমার অংশেই নিরাপদ অঞ্চল করে রোহিঙ্গাদের স্থান দেয়ার উদ্যোগ আলোচনায় এসেছে।
আন্তর্জাতিকভাবে আলোচনায় এ উদ্যোগে বাংলাদেশের সায় রয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার রাজনৈতিক উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম।
তিনি বলেন, উদ্ভূদ্ধ সমস্যা মিয়ারমানের সৃষ্টি তাই সমাধানের পথও মিয়ানমারকেই তৈরি করতে হবে।
তিনি আরো বলেন, রোহিঙ্গা ইস্যু বাংলাদেশের জন্য এখন অনেক গুরুত্বপূর্ণ। দেশের সবচেয়ে বড় পর্যটন কেন্দ্র কক্সবাজার ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, পাশাপাশি নিরাপত্তা যেমন হুমকিতে পড়ছে তেমনি ক্ষতি হচ্ছে অর্থনীতির।
তাই এসব দিক গুরুত্ব দিয়ে সরকার শুধু আন্তর্জাতিকভাবেই এগোচ্ছা না দ্বিপাক্ষিভাবেও আলোচনাও চালিয়ে যাচ্ছে বলে জানান তিনি।
সে আলোচনায় দুদেশ যৌথভাবে সীমান্ত প্রহরা দেবে, সীমান্ত পরিদর্শন করবে এবং জঙ্গি বা উগ্রবাদীদের বিরুদ্ধে যৌথভাবে অভিযান চালাবে এমন গঠনমূলক তিনটি প্রস্তাব মিয়ানমার সরকারকে বাংলাদেশ থেকে দেয়া হয়েছে- বলে জানান প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক এ উপদেষ্টা।
এর আগে গত অক্টোবরে মিয়ানমারের আইন শৃংখলা বাহিনীর সঙ্গে সংঘাতে প্রায় এক লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে।