রোহিঙ্গা সমস্যা নিরসনে বাংলাদেশের দেয়া মিয়ানমারের ভেতরেই "নিরাপদ অঞ্চল" গড়ে তোলার প্রস্তাবকে ইতিবাচক মনে করেন বিশ্লেষকরা।
তবে এজন্য জাতিসংঘ, ওআইসিসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে আন্তরিকভাবে সহযোগিতা করতে হবে বলে মনে করেন তারা। আর মিয়ানমারের সঙ্গে সংঘাতে না গিয়ে কূটনৈতিক তৎপরতার মাধ্যমেই বাংলাদেশকে এ সমস্যা সমাধান করা উচিত বলে পরামর্শ তাদের।
মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে শুরু হওয়া সহিংসতায় প্রায় এক হাজারেরও বেশি রোহিঙ্গা মারা গেছেন বলে জানিয়েছে জাতিসংঘ। সহিংসতার হাত থেকে বাঁচতে গত ১০ দিনে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে প্রায় ৩ লাখ রোহিঙ্গা।
কাজাখস্তানে ওআইসির সম্মেলনে এই রোহিঙ্গাদের নিজ ভূমিতে ফিরে যাওয়া ও তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ও মুসলিম দেশগুলোকে কার্যকর উদ্যোগ নেয়ার তাগিদ দেন রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ।
সম্মেলনে ফাঁকে তুর্কী প্রেসিডেন্ট রিসেপ তায়িপ এরদোয়ানের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে করেন।
বৈঠকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গারা যাতে সীমান্তের মিয়ানমার অংশে জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে একটি "সেইফ জোনে" থাকতে পারে- সেবিষয়টি নিশ্চিত করতে আর্ন্তজাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
বাংলাদেশের এ ধরনের উদ্যোগ এই সংকট নিরসনে অনেক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষক সাবেক রাষ্ট্রদূত এম হুমায়ুন কবির।
তবে, তা করতে হলে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে মিয়ানমারের সহিংসতার চিত্র আর এর ফলে বাংলাদেশের জন্য তৈরি হওয়ার সঙ্কটের কথা তুলে ধরার তাগিদ দেন তারা।
আর মিয়ানমারের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করলেই এ সমস্যার সমাধান হবে বলে মোটেও মনে করেন না আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষক অধ্যাপক ড. দেলোয়ার হোসেন।
সেটা বাস্তবসম্মত হবে না উল্লেখ করে, কূটনৈতিকভাবেই এই সমস্যা নিরসনের পরামর্শ তার।
রোহিঙ্গারা যাতে নিজ ভূমিতে ফিরে গিয়ে নিরাপত্তা আর মর্যাদার সঙ্গে থাকতে পারে তা নিশ্চিত করতে শুধু বাংলাদেশ নয়, বিশ্বের সব দেশকেই উদ্যোগ নিতে হবে বলে মনে করেন তারা।