ভর্তুকি অব্যাহত রাখলে বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর কোনো দরকার হবে না। আর উচ্চমূল্যের রেন্টাল-কুইক রেন্টালের পরিবর্তে সরকারি বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোতে গ্যাস দিলে ভর্তুকিরও কোনো দরকার হবে না।
উপরন্তু প্রতি ইউনিট বিদ্যুতে দেড় টাকারও বেশি কমানো সম্ভব বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।
ভর্তূকির বিষয়ে বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে একমত সরকারের পাওয়ার সেল। তবে স্বল্পমূল্যের বিদ্যুৎ উৎপাদনের সবচেয়ে ভালো পন্থাই সরকার অবলম্বন করেছে বলে দাবি তাদের।
বিক্রয় মূল্যের চেয়ে উৎপাদন খরচ বেশি আর কর্মকর্তা কর্মচারিদের বেতনভাতা বৃদ্ধির অজুহাতে পাইকারি ও খুচরা দুই পর্যায়েই বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো।
পাইকারি পর্যায়ে দাম বাড়ানোর পক্ষে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের যুক্তি, সরকার কৃষি এবং গ্রামের দরিদ্র জনগোষ্ঠীকে উৎপাদন খরচের চেয়ে কম দামে বিদ্যুৎ দিচ্ছে এজন্য সরকারকে ভর্তুকি দিতে হচ্ছে ৩ হাজার ৮০০ কোটি টাকা। কিন্তু এই ভর্তুকি আর দিতে চাচ্ছে না সরকার। যে কারণে প্রায় ১৬ শতাংশ দাম বাড়ানোর প্রস্তাব তাদের।
পাইকারি পর্যায়ে দাম না বাড়ালে খুচরা পর্যায়েও বাড়বে বলে দাবি বিশেষজ্ঞদের।
বক্তরা বলেন, রেন্টাল কুইক রেন্টাল নবায়ন না করা, বেসরকারি পর্যায়ে গ্যাস সরবরাহ কমিয়ে, সরকারি কেন্দ্রগুলোতে গ্যাস দেয়া, আন্তর্জাতিক বাজার মূল্যে বিদ্যুৎ কেন্দ্র ফার্নেস জ্বালানি তেল সরবরাহ করলে বছরে ৮ হাজার কোটি টাকা সাশ্রয় হবে।
যাতে ভর্তুকি ছাপিয়ে, বিদুতের দাম আরো কমানো সম্ভব হবে।
তবে সরকারি হিসেব ভিন্ন। বেসরকারি খাতকে অতিরিক্ত কোনো সুবিধা দিচ্ছেন বলে দাবি তাদের। ৮ হাজার কোটি টাকা সাশ্রয়ের সুযোগ নেই বলে মনে করেন পাওয়ার সেলের এ মহাপরিচালক।
তবে, এ বিষয়ে এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের সিদ্ধান্তই চুড়ান্ত বলে মনে করে সরকার।