রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠানোর পথ তৈরি হয়েছে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের মিয়ানমান সফরে—এমন মন্তব্য বিশেষজ্ঞদের।
রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে বাংলাদেশের পক্ষে আন্তর্জাতিক অঙ্গনের যে সমর্থন ও সহযোগিতা রয়েছে তা খুবই ইতিবাচক। এটিকে কাজে লাগানোর পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ ঐক্য দরকার বলে মত তাদের।
সাবেক কূটনীতিক হুমায়ুন কবীর বলেন, মিয়ানমারের ঐক্য রয়েছে বাংলাদেশকেও এই ইস্যুতে রাজনৈতিকভাবে ঐক্যবদ্ধ হয়ে এই সংকট মোকাবেলা করতে হবে।
রোহিঙ্গা সংকট দীর্ঘস্থায়ী হলে বাংলাদেশের নিরাপত্তা হুমকিতে পড়ার আশংকাও কথা বলেন তিনি।
মিয়ানমারের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ঢাকা সফর এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের মিয়ানমার সফর পরপর দুই মন্ত্রীর সফর ও বৈঠকে রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে দুদেশ কতটুকু এগোলো সে নিয়ে আলোচনা সর্বত্র।
বিশেষজ্ঞদের মতে, রোহিঙ্গা ইস্যুতে মিয়ানমারকে নমনীয় করা কঠিন ও দুরহ। নব্বইয়ের দশকে এদেশে আশ্রয় নেয়া কয়েক হাজার রোহিঙ্গাকে ফেরত পাঠাতে বাংলাদেশকে অনেক কাঠখড় পোড়াতে হয়েছে সে উদাহরণ টেনে সাবেক এই কূটনীতিক বলেন, এখন দশ লাখ ফেরত পাঠানো অনেক কঠিন হয়ে যাবে।
তবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর মিয়ানমান সফরে এই সংকট সমাধানের একটা প্রাথমিক পথ যদিও তৈরি হয়েছে তবুও বাংলাদেশকে আঁটঘাট বেধেই এগুতে হবে জানান হুমায়ুন কবীর।
মিয়ানমারের সেনা প্রধানকে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী রেক্স টিলারসনের ফোন করাকে অনেক গুরুত্ব দিয়ে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা।
ইশফাক ইলাহী বলেন, বাংলাদেশের জন্য ইতিবাচক দিক আন্তর্জাতিক অঙ্গনের সমর্থন পাওয়া সে সমর্থনকে কাজে লাগানোর পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক ঐক্য দরকার।
আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গারা দীর্ঘ সময়ের জন্য অবস্থান করলে, বাংলাদেশের নিরাপত্তা হুমকিতে পড়তে পারে বলে আশংকা করছেন ইশফাক ইলাহী। মিয়ানমারের সঙ্গে রোহিঙ্গা ইস্যু নতুন নয় এ কথা মাথায় রেখে অনেক আগেই সীমান্তে নিরাপত্তা জোরদার করা উচিৎ ছিল বাংলাদেশের।
যে সংকট ঘাড়ে চেপে বসেছে তা সহজেই সমাধান হওয়ার নয় উল্লেখ করে, বাংলাদেশকে আরও বেশি তৎপর হতে হবে বলে মনে করেন তিনি।
তবে দুজনেই বললেন, রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে মিয়ানমারকে বাধ্য করতে আন্তর্জাতিক চাপের বিকল্প নেই।