সরকারি চাকরিতে কোটা পদ্ধতির সংস্কার চান বিশ্লেষকরাও।
তাদের যুক্তি, যে উদ্দেশ্যে স্বাধীনতার সূচনালগ্নে কোটা পদ্ধতি চালু করা হয়েছিল তা অনেকাংশেই অগ্রসর হতে পেরেছে। বিশেষ করে মুক্তিযোদ্ধা কোটায় সংস্কার আনা জরুরি বলে মত দেন তারা।
মুক্তিযোদ্ধাদের সন্তানের পরের প্রজন্মকে এই কোটার আওতায় রাখার যৌক্তিকতা নেই। এতে করে মুক্তিযোদ্ধা ও সরকারি চাকরি প্রার্থী বা তরুণ সমাজের মধ্যে বিভাজন সৃষ্টি হবে যা ভবিষ্যত প্রজন্মের জন্য সুখকর হবে না।
সমাজে পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীকে এগিয়ে নেয়ার উদ্দেশ্যে চালু করা হয়েছিল সরকারি চাকরিতে কোটা পদ্ধতি। চাকরি নিয়োগে এখন সেই কোটারই আধিপত্য।
একদিকে যেমন কোটা পূরণ হচ্ছে না অন্যদিকে যোগ্য প্রার্থিরা চাকরি পাচ্ছে না। এই বিপরীত অবস্থার জন্য দায়ী সরকারের চাকরিনীতি। আর এর পক্ষে-বিপক্ষে আন্দোলন চলছে রাজপথে।
সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকরা বলেছেন, কোটা বাদ দিয়ে এ সমস্যার সমাধান হবে না –এজন্য প্রয়োজন সংস্কার।
কোটা আন্দোলনের সঙ্গে এক সময়ে জড়িত থাকা এই বিশ্লেষক শরীফুজ্জামান বলেন, এই বিশাল অংশের কোটা পদ্ধতি বহাল থাকলে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা এবং বর্তমান চাকরি প্রার্থীদের মধ্যে বিভাজন সৃষ্টি হবে যা ভবিষ্যতের জন্য ইতিবাচক নয়।
কোটা সংস্কারের পক্ষে সাবেক সচিব সা'দাত হোসেন।
দায়িত্ব থাকাকালীন সময়ে নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, কোটা সংস্কারের এখন সময় এসেছে।
শুধু মুক্তিযোদ্ধা, ক্ষুদ্র-নৃগোষ্ঠী, নারী কিংবা জেলা কোটাই নয়, এই ৫৬ শতাংশের বহু ভাগ রয়েছে এই মান্ধাতা আমলের পদ্ধতিতে।
তা তুলে ধরে সাবেক পিএসসি চেয়ারম্যান জেলা কোটা তুলে দেয়ার পক্ষে মত দেন।
কোটা নিয়ে এত সমালোচনার মধ্যে সরকারের অবস্থান পরিষ্কার করে জনপ্রশাসন সচিব ড. মোহাম্মদ মোজাম্মেলন হক খান জানান উদ্দেশ্য পূরণ হলে হয়তো একদিন বাংলাদেশে সরকারি চাকরিতে কোটা পদ্ধতিই থাকবে না।
যদিও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, কোটা পূরণ না হলে তা মেধার ভিত্তিতে পূরনের কথা। সেটাও এক ধরনের সংস্কার হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা।