জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যাকাণ্ডের বিচার হলেও বিচার হয়নি চক্রান্তকারীদের— উন্মোচিত হয়নি পঁচাত্তরের সেই ষড়যন্ত্রের স্বরূপ।
মুক্তিযুদ্ধের পরাজিত শক্তি ছিলো এ চক্রান্তের দেশিয় প্রেক্ষিতের মূলে। যেখানে প্রতিক্রিয়াশীল রাজনৈতিক চক্রের সঙ্গে যুক্ত হয় আরেকটি সামরিক ঘাতকচক্র।
বিশ্লেষকরা বলছেন, এটি নিছক হত্যাকান্ড নয়, বরং এর পেছনে বড় ধরনের রাজনৈতিক উদ্দেশ্য ছিল। যার নেপথ্য ছিল দেশি-বিদেশি চক্র। যা আজও রহস্যই থেকে গেছে। ঘটনার পেছনের ঘটনা এবার জাতির সামনে তুলে ধরার তাগিদ উঠেছে।
একটা দেশের রাষ্ট্রপ্রধান হিসাবে প্রাতিষ্ঠানিক নিরাপত্তা পাওয়ার কথা ছিল তার। তার কতটা পেয়েছিলেন বঙ্গবন্ধু?
ধানমণ্ডির ৩২ নম্বরে নিজ বাসভবনে জাতির জনক বিপদ আক্রান্ত হয়ে টেলিফোনে যাদের জানিয়েছিলেন, তাদের ভূমিকা কি ছিল? কেমন ছিল সেই হত্যার চক্রান্ত ও ষড়যন্ত্রের জাল, যে কেউ পৌঁছার আগেই সব শেষ হয়ে গেলো। ঘটনার পরেরদিন ১৬ আগস্ট সকালের চিত্রই বলে দিচ্ছিল বঙ্গবন্ধু হত্যার পেছনে কত বড় চক্রান্ত ছিল। বলছিলেন তখনকার ছাত্র সংগঠক লেখক ও গবেষক মহিউদ্দিন আহমদ।
পঁচাত্তরের ১৫ আগষ্ট সেই হত্যাযজ্ঞের আগে বা পরের ষড়যন্ত্রের স্বরূপ সাধারণ মানুষের অনেকটাই অজানা। বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করে কার্যত মুক্তিযুদ্ধের পরাজিত শক্তিই জেঁকে বসেছিল সদ্যস্বাধীন বাংলাদেশের রাষ্ট্রযন্ত্রে।
তবে দুর্ভাগ্য যে সেই চক্রান্তে সামিল হয়েছিল নিজ দলের কেউ কেউ। যা তৎকালীন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার মোশতাকের ক্ষমতা দখলই তা প্রমান করে।
চক্রান্তকারীরা প্রতিক্রিয়াশীল রাজনীতির ধারক- সঙ্গী সাম্প্রদায়িক শক্তি- যার সঙ্গে সবসময়ই কিছু কিছু সেনা সদস্যের যোগ প্রমাণিত হয়েছে।
বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের বিচার হয়েছে- অপরাধীদের শাস্তি পাওয়ার উদাহরণ তৈরি হয়েছে। সংবিধানে শাস্তির বিধান রেখে ষড়যন্ত্র করে অবৈধ ক্ষমতা দখলের পথ বন্ধ করার চেষ্টা চলছে।
এর ধারাবাহিকতায় একই সঙ্গে পঁচাত্তরের চক্রান্তের সূত্রগুলো প্রকাশ করতে একটি কমিশন গঠনের প্রস্তাবও উঠেছে।