জিম্মিদের উদ্ধার অভিযান শনিবার সকাল পৌঁনে ৮টা শুরু করে সেনাবাহিনীর প্যারাকমান্ডোরা। জঙ্গিদের সঙ্গে চলে প্রায় দু'ঘণ্টাব্যাপী গুলি বিনিময়। থেমে থেমেই চলে গুলি আর গ্রেনেডের শব্দ। প্যারাকমান্ডোদের সঙ্গে সেনাবাহিনীর সাঁজোয়া যান অংশ নেয় অভিযানে। অভিযান শেষে ২০ জনের মরদেহ ও ১৩জনেক উদ্ধার করা হয়েছে।
এদিকে, উদ্ধার অভিযানের আগেই গতকাল রাতে বনানী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-ওসি সালাউদ্দিন আহমেদ ও ডিবির এসি রবিউল ইসলাম নিহত হন।
ভোরের আলো ফোটার সঙ্গে সঙ্গে ওই রেস্তরাঁর কাছাকাছি অবস্থান নেয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এর আগে বিভিন্ন বাহিনীর জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা কয়েক ঘণ্টা ধরে সরকারের নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে করণীয় নিয়ে বৈঠক করেন।
ভোর ৫টার দিকে ওই কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে ফিরে এলে মাইকিং করে সাধারণ পোশাকের সবাইকে সরিয়ে দেয়া হয়। গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের যারা সাদা পোশাকে ছিলেন তাদেরকে বাহিনীর ভেস্ট পরার নির্দেশ দেয়া হয়। মিডিয়া কর্মীদেরও দূরে সরিয়ে নেয়া হয়।
সকালে অভিযানের একপর্যায়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন পুলিশের মহাপরিদর্শক ও র্যা বের মহাপরিচালক। যদিও অভিযান সম্পর্কে গণমাধ্যমকে কিছুই অবহিত করেননি তারা।
রাতভর উৎকণ্ঠায় থাকা এক জিম্মির বাবাকে ফোনে বেঁচে থাকার কথা বলে, কথা শুনে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন বাবা।
দুঃস্বপ্নের রুদ্ধশ্বাস সময় শেষে স্বস্তি মিলে জিম্মি হওয়া মানুষ, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী, গণমাধ্যমকর্মী ও উৎকন্ঠিত দেশবাসীর।
আগের তথ্য:
কমান্ডো অভিযানের মধ্যদিয়ে রাজধানীর গুলশানে স্প্যানিশ রেস্তোরাঁ হোলি আর্টিজানে জিম্মি ঘটনার রক্তাক্ত অবসান শেষ হয়েছে। আইএসপিআর থেকে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয়া হয়েছে। সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে সংবাদ সম্মেলনে ২০ জনের নিহত হওয়ার কথা জানানো হয়েছে।
এ অভিযানের পর ২০ জনের মৃতদেহ ও ১৩ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে।
রাজধানীতে এক অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ৬ হামলাকারীকে ঘটনাস্থলেই হত্যা করা হয়েছে এবং একজনকে আহত অবস্থায় আটক করা হয়েছে।
শনিবার ভোর সাড়ে ৭টায় পুলিশের বিশেষায়িত বাহিনী সোয়াত, নৌবাহিনীর কমান্ডো দল, সেনাবাহিনী ও প্যারা কমান্ডোসহ পুলিশ, র্যা পিড অ্যাকশন ব্যাটেলিয়ন (র্যা ব) ও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সম্মিলিতভাবে এ অভিযান শুরু করে। একঘন্টা ধরে জঙ্গিদের সঙ্গে গুলি বিনিময় চলে কমান্ডোদের সঙ্গে।
শুক্রবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে গুলশানের স্প্যানিশ রেস্তোরাঁ হোলি আর্টিজানে জিম্মি ঘটনা ঘটে।
ওই জিম্মি ঘটনার ১২ ঘন্টা পর এর অবসান ঘটেছে-- আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযান সমাপ্তির ঘোষণা দেয়া হয়েছে।
ঘটনাস্থল থেকে গুলশানের প্রায় চার বর্গ কিলোমিটার এলাকা ঘিরে রেখেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। পুরো এলাকায় প্রবেশে কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে।
এর আগে, সবশেষ সোয়া ৯ টার দিকে বিকট শব্দ পাওয়া গেছে, এর আগে ভোর ৪টা ৫ মিনিটে একটি গ্রেনেড বিস্ফোরণের শব্দ শোনা পওয়া যায়। তার আগে রেস্তোরাঁর আর্জেন্টাইন শেফ দিয়েগো ও বাংলাদেশি ইলেক্ট্রিশিয়ান বেলালকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করে সোয়াত।
এছাড়া সন্দেহভাজন হিসেবে কমপক্ষে ২ জনকে আটক করে পুলিশ। এর মধ্যে একজনকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় পাওয়া যায়। তাকে হাসপাতালে নেয়া হয়েছে।
অভিযান শুরুর পরপরই নারী ও শিশুসহ ১৩ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। রাজধানীর একটি অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ কথা বলেন।
রেস্তোরাঁয় জঙ্গিদের জিম্মি ঘটনায় উদ্ধার অভিযানের শুরুতেই নিহত হন বনানী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সালাউদ্দিন ও ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের সহকারী কমিশনার রবিউল ইসলাম। গুরুতর আহত হন আরো কয়েকজন পুলিশ সদস্য।
শুক্রবার রাত পৌনে ৯টার দিকে গুলশানের হলি আর্টিজান বেকারি নামের একটি স্প্যানিশ রেস্তোরাঁয় ঘটনার সুত্রপাত হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন ৮ জন অস্ত্রধারী গুলি ও বোমা ফাটিয়ে রেস্তোরাঁটি দখলে নেয়। এসময় তারা ‘আল্লাহু আকবর’ ধ্বনি উচ্চারণ করে। রেস্তোরাঁ দখলে নিয়ে তারা আলো নিভিয়ে দেয়।
ওই সময় দোতলা থেকে লাফিয়ে পড়ে পালিয়ে আসা রেস্তোরাঁর একজন কর্মী সুমন রেজা জানান, হামলাকারীদের কাছে বিভিন্ন অস্ত্র ও তলোয়ার ছিল। রেস্তোরাঁয় ওইসময় প্রায় ৩০ জন দেশি-বিদেশি নাগরিক ছিলেন। তাদের মধ্যে কমপক্ষে ২০ জন বিদেশি।
খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে রেস্তোরাঁ ও সংলগ্ন এলাকা ঘিরে ফেলে পুলিশ--পরে তাদের সঙ্গে যোগ দেয় র্যা ব, বিজিবি, সোয়াত ও কমান্ডো।
ঘটনাস্থল থেকে গুলশানের প্রায় ৪ বর্গ কিলোমিটার এলাকা ঘিরে রেখেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। পুরো এলাকায় প্রবেশে কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে। যান চলাচল বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। ঘটনাস্থলে রয়েছে নৌবাহিনীর কমান্ডোদল ও বিভিন্ন বিশেষায়িত ইউনিট।
বিশেষায়িত ইউনিটের সদস্যরা গ্রেনেড শিল্ড, বুলেট শিল্ড, দরজা ভাঙার যন্ত্রপাতি ও ভারী অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে অবস্থান নিয়েছেন।