মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি আলবদর কমান্ডার মীর কাসেম আলী রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষা চাইবেন না— বলে জানিয়েছেন কারা মহাপরিদর্শক (আইজি প্রিজন) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ ইফতেখার উদ্দীন।
শুক্রবার বিকেলে কাশিমপুর কারাগার-২ এর সিনিয়র জেল সুপার প্রশান্ত কুমার বণিক সঙ্গে আলাপ শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।
জানা গেছে, দুপুরের পর মীর কাসেম আলীর কাছে রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষার বিষয়ে জানতে চায় কারাকর্তৃপক্ষ। এ সময় তিনি প্রাণভিক্ষা চাইবেন না বলে জানিয়ে দেন।
কাশিমপুর কারাগারের জেলার নাশির আহমেদ বলেন, প্রাণভিক্ষা না চাওয়ার দণ্ড কার্যকরে আর কোনো আইনি নেই। এখন কপি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে সেখান থেকে সময় ও তারিখ নির্ধারনের অনুমতি পেলেই ফাঁসি কার্যকর করা হবে।
এরইমধ্যে কাশিমপুর কারাগার ঘিরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরো জোরদার করা হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, কাসিমপুর কারাগার-২ মীর কাসেম আলীর ফাঁসি কার্যকর হতে পারে।
সকালে কাশিমপুর কারাগার-২ এর সিনিয়র জেল সুপার প্রশান্ত কুমার বণিক বলেন, প্রাণভিক্ষা চাওয়ার বিষয়ে মীর কাসেমকে আবারো জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে কি-না? এ বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।
কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা পেলে পরবর্তী পদক্ষেপ নেয়া হবে বলেও জানান কাশিমপুর কারাগার-২ এর সিনিয়র জেল সুপার।
এর আগে আইজি প্রিজন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ ইফতেখার উদ্দিন বলেন, মীর কাসেম আলীকে রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষার জন্য যৌক্তিক সময় দেয়া হবে।
গত বুধ ও বৃহস্পতিবার প্রাণভিক্ষার ব্যাপারে জানতে চাওয়া হলে ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি আলবদর কমান্ডার মীর কাসেম আলী ভাবার জন্য সময় চান।
এদিকে, বাড়তি নিরাপত্তায় কারা ফটকে অতিরিক্ত কারারক্ষী মোতায়েন রয়েছে। এছাড়াও বিপুল সংখ্যক পুলিশ এবং সাদা পোশাকে গোয়েন্দারা কাজ করছেন। আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর মীর কাসেম আলীর ফাঁসি কার্যকরের বিষয়ে সার্বিক প্রস্তুতি রয়েছে বলে জানিয়েছে কারা কর্তৃপক্ষ।
গত মঙ্গলবার প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার (এসকে) সিনহার নেতৃত্বাধীন ৫ সদস্যের বেঞ্চ রিভিউ আবেদনের শুনানি শেষে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মীর কাসেমের ফাঁসি বহাল রেখে রায় ঘোষণা করেন।
ওইদিন বিকেল সোয়া ৫টার দিকে ২৯ পৃষ্ঠার পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করা হয়। পরে এ যুদ্ধাপরাধীর দণ্ড কার্যকরের প্রক্রিয়া শুরু হয়।
ফাঁসির রায় পুনর্বিবেচনার (রিভিউ) আবেদন খারিজ হওয়ার রায় বুধবার সকালে তাকে পড়ে শোনানো হয়। পরে বেলা পৌনে ৩টার দিকে মীর কাসেম আলীর পরিবারের ৯ সদস্য কারাগারে তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।
প্রায় ২ ঘণ্টা পর বিকাল পৌনে ৪টার দিকে কারাগার থেকে বেরিয়ে মীর কাসেম আলীর স্ত্রী খন্দকার আয়েশা খাতুন বলেন, ছেলে ব্যারিস্টার মীর আহমেদ বিন কাসেমকে ফিরে পাওয়ার পর তার সঙ্গে কথা বলে রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষা চাওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন বলে জানিয়েছেন তার স্বামী।