মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি আলবদর কমান্ডার মীর কাসেম আলীর ফাঁসি কার্যকর করতে সরকারের নির্বাহী আদেশ গাজীপুরের কাশিমপুর কারাগারে পৌঁছেছে।
শনিবার কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার-২ এর জেলার নাসির আহমেদ সাংবাদিকদের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তবে মীর কাসেমের ফাঁসি কখন কার্যকর হবে সে বিষয়ে কোনো তথ্যা তিনি দেননি।
এরইমধ্যে কারাগারে মীর কাসেম আলীর সঙ্গে দেখা করেছেন স্ত্রী ও সন্তানসহ পরিবারের সদস্যরা।
বিকেলে মীর কাসেমের সঙ্গে দেখা করতে তার পরিবারের সদস্যরা ৬টি গাড়িতে করে ৪৩ থেকে ৪৫ জন কারাগারে পৌঁছান।
এর আগে সকালে কারাগার কর্তৃপক্ষ টেলিফোনে মীর কাসেমের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে সাড়ে ৩টায় সাক্ষাতের জন্য কারাগারে হাজির হওয়ার কথা জানান।
গাজীপুরের কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার-২ এর ৪০ নম্বর কনডেম সেলে রাখা হয়েছে মীর কাসেমকে। এরইমধ্যে ফাঁসির মঞ্চ প্রস্তুত করে প্রাথমিক মহড়াও সম্পন্ন করা হয়েছে— প্রস্তুত রাখা হয়েছে জাল্লাদ দলকে।
এখন মীর কাসেমের যুদ্ধাপরাধীর সঙ্গে শেষবারের মতো তার স্বজনরা সাক্ষাত করেছেন। এখন তার স্বাস্থ্য পরীক্ষা শেষে কনডেমড সেলে তওবা পড়াবেন কারা মসজিদের ইমাম।
গাজীপুর জেলা প্রশাসক, সিভিল সার্জন, পুলিশের প্রতিনিধিসহ ঊর্ধতন কারা কর্মকর্তার উপস্থিতিতে ফাঁসি কার্যকর করা হবে এ আল বদর কমান্ডরের।
অত্যাধুনিক এ কারাগারে প্রথম কোনো যুদ্ধাপরাধীর ফাঁসি কার্যকর হতে যাচ্ছে তাই বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর।
এদিকে, সকাল থেকে কাশিমপুর কারাগারসহ চারপাশে এবং বিশেষ করে কারা ফটকের সামনে বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থাগ্রহণ করা হয়েছে। পোশাকে এবং সাদাপোশাকে কাজ করছেন গোয়েন্দারা।
কারা ফটকেও তল্লাশি করে নিয়মিত দর্শনার্থীদের ভেতরে ঢোকার অনুমতি দেয়া হচ্ছে।
রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষা চাইবেন না বলে শুক্রবার জানিয়ে দেয়ায় তার ফাঁসি কার্যকর এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র।
একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ২০১৪ সালে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনাল মীর কাসেমকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ডের রায় দেয়।
পরে চলতি বছরের মার্চে আপিলের রায়ে, ১৯৭১ সালে চট্টগ্রামের কিশোর মুক্তিযোদ্ধা জসিমকে হত্যার দায়ে তার ফাঁসির আদেশ বহাল রাখা হয়।
আইনি লড়াইয়ের শেষ ধাপে তার রিভিউ আবেদন খারিজ হলে ফাঁসির রায়ই বহাল থাকে।