লোডশেডিংয়ের কারণে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু শিক্ষার্থীর অনুরোধে গাছতলায় ক্লাস হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২১ জুলাই) বিশ্ববিদ্যালয়টির লোকপ্রশাসন বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থীরা একাডেমিক ভবন-৩ এর সামনের গাছতলায় বসে ক্লাস করেন। ক্লাসটি নেন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক জুবায়ের ইবনে তাহের।
বাইরে ক্লাস করার কারণ জানতে চাইলে শিক্ষার্থীরা বলেন, ‘সামনে সেমিস্টার ফাইনাল। তাই ক্লাস ও পরীক্ষার চাপ বেশি। সকাল ১১টায় ক্লাস ছিল। ক্লাসে আসার পর থেকেই লোডশেডিং শুরু হয়। প্রচণ্ড গরমের কারণে সেখানে বসে ক্লাস করা অসম্ভব হয়ে পড়ে। এ সময় কিছু শিক্ষার্থী অসুস্থ অনুভব করে এবং অবস্থা বেগতিক দেখে শিক্ষক ক্লাসটি বাইরে গাছতলায় নেন।’
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, বিশ্বব্যাপী জ্বালানি তেলের অস্বাভাবিক মূল্য বৃদ্ধির কারণে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের লক্ষ্যে এলাকাভিত্তিক লোডশেডিংয়ের কথা থাকলেও তা মানছে না রংপুর অঞ্চলের নর্দার্ন ইলেক্ট্রিসিটি সাপ্লাই কোম্পানি (নেসকো)। এলাকাভিত্তিক এক ঘণ্টা করে লোডশেডিংয়ের কথা থাকলেও ২৪ ঘণ্টায় বিদ্যুৎ থাকছে মাত্র ৬ থেকে ৮ ঘণ্টা। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুতের দাবি করেন শিক্ষার্থীরা।
মার্কেটিং বিভাগের নুসাইবা রিফা জানান, প্রচণ্ড গরমে ক্লাস করা অসম্ভব হয়ে পড়েছে। স্যারকে অনুরোধ করে দুই দিন ক্লাস বাতিল করেছি। একদিন সময় পরিবর্তন করেছি। এমন অবস্থায় আমাদের পড়ালেখার অনেক ক্ষতি হচ্ছে। পড়াশুনায় মনোযোগ দিতে পারছি না। অতি দ্রুত দেশের অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসেও নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ না করলে শিক্ষার্থীরা নেসকো অফিস ঘেরাও করতে বাধ্য হবে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা দফতরের পরিচালক এবং রসায়ন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক নুরুজ্জামান খান বলেন, নেসকো ২৪ ঘণ্টায় এক ঘণ্টা লোডশেডিংয়ের কথা বললেও ৫ থেকে ৮ ঘণ্টা পর্যন্ত এটি চলছে। এতে চরম বিপাকে পড়তে হয়েছে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের।
নর্দার্ন ইলেক্ট্রিসিটি সাপ্লাই কোম্পানির (নেসকো) রংপুর বিতরণ অঞ্চলের প্রধান প্রকৌশলী শাহাদাত হোসেন বলেন, আমরা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় লোডশেডিং কম দেওয়ার চেষ্টা করছি।