রোহিঙ্গা দমন-পীড়ন বিষয়ে মিয়ানমারকে চাপ দিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃষ্টি আকর্ষণে বাংলাদেশ উদ্যোগ নিচ্ছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এএইচ মাহমুদ আলী।
বৃহস্পতিবার বিকেলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন তিনি।
রোহিঙ্গা ইস্যুতে সরকার সব কিছু করবে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, অনিবন্ধিত রোহিঙ্গাদের শরণার্থী বিবেচনা করার বিষয়ে আপাতত কোনো পরিকল্পনা নেই।
তবে তাদের ওপর একটি জরিপ চালানোর পাশাপাশি রোহিঙ্গাদের ডকুমেন্টেশনের আওতায় আনা হচ্ছে জানিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরো বলেন, বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্ত এলাকা দুর্গম হওয়ার কারণে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ ঠেকানো অনেকটা দুরুহ।
পাশাপাশি সীমান্তে কড়াকড়ি থাকা সত্ত্বেও যারা এরই মধ্যে এদেশে প্রবেশ করেছে মানবিক কারণেই তাদের খাবার ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসার ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
এদিকে, মুক্তিযুদ্ধের সময় বাঙালিরা শরণার্থী হয়ে ভারতে আশ্রয় নিয়েছিল সেকথা মনে করে হলেও মিয়ানমারের রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে আশ্রয় দেয়া উচিত- বলে জানান বিকল্প ধারার সভাপতি অধ্যাপক বদরুদ্দৌজ্জা চৌধুরী।
আর রোহিঙ্গাদের আশ্রয় না দেয়া হলে তা মানবতাবিরোধী কাজ হবে বলে মন্তব্য করেন ডা. জাফরুল্লার।
রাজধানীতে এক আলোচনা সভায়, মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গা নির্যাতনের নিন্দা জানান তারা। রোহিঙ্গাদের ওপর নির্যাতনের প্রতিবাদে নেত্রকোনা ও শরীয়তপুরসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় মানববন্ধন হয়েছে।
জাতীয় প্রেসক্লাবে বৃহস্পতিবার আদর্শ নাগরিক আন্দোলন নামের একটি সংগঠন আয়োজিত আলোচনা সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন সাবেক রাষ্ট্রপতি, বিকল্প ধারার সভাপতি একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরী।
রোহিঙ্গাদের আশ্রয় না দেয়া অমানবিক হবে বলে এসময় মন্তব্য করেন গণস্বাস্থ্য নগর হাসপাতালের ট্রাস্টি ডাক্তার জাফরুল্লাহ।
এদিকে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গাদের উপর নির্যাতনের নিন্দা জানিয়ে দেশের বিভিন্ন জায়গায় মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সকালে নেত্রকোণার মোক্তারপাড়ার বড় মসজিদের সামনে মানববন্ধন করে ইত্তেফাকুল উলামা নেত্রকোনা শাখা। মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের ওপর নির্যাতনের তীব্র নিন্দা জানান বক্তারা।
শরীয়তপুর-ঢাকা মহাসড়কের চৌরঙ্গীর মোড়ে একই ইস্যুতে মানববন্ধন করেছে শরীয়তপুর উলামা পরিষদ।