ভারতের নাইটিংগেলখ্যাত উপমহাদেশের কিংবদন্তি কণ্ঠশিল্পী লতা মঙ্গেশকর ৩৬ টি ভাষায় গান গেয়েছেন। দীর্ঘ সাত দশক গানের রাজ্য শাষন করেছেন তিনি। ২৫ হাজারের বেশি গান গেয়ে মাইলফলক স্পর্শ করেছেন।
বাংলায়ও গেয়েছেন কালজয়ী অনেক গান। শুধু বাংলা বা হিন্দি নয়, ৩৬টি ভাষায় গান গেয়েছেন তিনি। এমন বর্ণিল ক্যারিয়ার পৃথিবীতে কম শিল্পীর হয়ে থাকে। ধ্রুপদী থেকে রোমান্টিক, গজল বা ভজন সব ধরণের গানই তার কণ্ঠে মানিয়েছে অসাধারণ। গানের প্রতিটি ধারায় তার সাহসী বিচরণ ছিলো। তার গলার গানের সুরেলা আবেশ আচ্ছন্ন করে গেছে সংগীত পিপাসুদের।
মাত্র পাঁচ বছর বয়সে লতা মঙ্গেশকর প্রথম তার বাবা দীননাথের নাটকে অভিনয় দিয়ে এই অঙ্গনে যাত্রা শুরু করেন। তবে তেরো বছর বয়সে বাবা দীননাথ মারা যান। ফলে অভিনয়ে আর এগোতে পারেনি তিনি।
১৯৪২ সালে মারাঠি ছবি ‘কিটি হাসাল’-এ লতার প্রথম প্লেব্যাক হয়। কিন্তু সে গান পরে বাদ পড়ে যায়।
ক্ষাণিকটা বিরতির পর ১৯৪৮ সালে হায়দরের ‘মজবুর’ ছবিতে প্রথম বড় ব্রেক পান লতা। হিট হয় তার গলায় দিল ‘মেরা তোড়া’ গানটি। এরপর এর ঠিক পরের বছরই ১৯৪৯ সালে ‘মহল’ ছবিতে ‘আয়েগা আনেওয়ালা’ গান লতাকে আকাশছোঁয়া জনপ্রিয়তা এনে দেয়। হায়দরের ভবিষ্যদ্বাণী সত্যি প্রমাণ করেন তিনি। হয়ে উঠেন ভারতের নাইটিংগেল।
এরপর এই কিংবদন্তী সংগীতশিল্পীকে আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। একে একে দর্শকদের অসংখ্য গান উপহার দিতে সবার মন জিতে নিয়েছেন তিনি।