চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে বিএম কনটেইনার ডিপোয় আগুন ও ভয়াবহ বিস্ফোরণে মহেশখালী থেকে রুবেল এসেছে ভাইকে খুঁজতে আর বলছেন, ভাইরে এহন ও পাইলাম না। এমন আর্তনাদে এ দিক সেদিক ছোটাছুটি করছেন তিনি। শনিবার (৪ জুন) রাতে সীতাকুণ্ডের বিএম কনটেইনার ডিপোয় এই ভয়ানক বিস্ফোরণ ঘটে।
এ সময় রুবেল দেশ টিভিকে জানায়, তার ভাইয়ের নাম মাহাবুব (২২) সে এখানে সিকিউরিটি গার্ডের কাজ করতেন। গতকাল রাত ৯ টা থেকে তাকে আর ফোনে পাওয়া যাচ্ছে না। তাইতো এখনো খুঁজে বেড়াচ্ছেন ভাইকে।
এ ছাড়া রুবেল বলছেন, ভাইয়ের লাশটাও যদি পেতাম তা হলে মনরে বুঝ দিতে পারতাম। এ ভাবেই আহাজারি করছে ভাই হারা ভাই।
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে বিএম কনটেইনার ডিপোয় আগুন ও ভয়াবহ বিস্ফোরণে শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত ৪৫জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে সাত ফায়ার সার্ভিস-কর্মী রয়েছেন।দগ্ধ হয়েছেন চার শতাধিক।
হতাহতদের মধ্যে শ্রমিক, পুলিশ সদস্য ও ফায়ার সার্ভিস-কর্মীও রয়েছেন। এদের মধ্যে বেশিরভাগকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। অনেককে বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়া হয়। হেলিকপ্টারে ঢাকায় আনা হয়েছে তিনজনকে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, ওই দীপ্যতে ৫০ হাজারের বেশি কনটেইনার রয়েছে। কেমিক্যাল কনটেইনার থেকে আগুনের সূত্রপাত বলে ধারণা করা হচ্ছে। আগুন লাগার পর কনটেইনারগুলো একের পর এক বিস্ফোরিত হতে থাকে। বিস্ফারণে ঘটনাস্থল থেকে তিন-চার কিলোমিটার এলাকা কেঁপে ওঠে। আশপাশের বাড়ি-ঘরের জানালার কাচ ভেঙে পড়ে।
অগ্নিদগ্ধদের জরুরি চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রামের সব চিকিৎসকের ছুটি বাতিল করা হয়েছে। বেসরকারি হাসপাতালগুলোকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে সীতাকুণ্ডে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় আহতদের চিকিৎসা দেওয়ার জন্য।
আগুনের সূত্রপাত কীভাবে হলো, তা এখনো জানা যায়নি। এ বিষয়ে বিএম কন্টেইনার ডিপোর পরিচালক মুজিবুর রহমান বলেন, ডিপো ব্যবস্থাপনার সঙ্গে জড়িতদের অনেকেই আহত থাকায় সঠিক কী কারণে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে কন্টেইনার থেকেই আগুন ধরেছে বলে ধারণা করছি।