এলাকাভিত্তিক লোডশেডিংয়ের এই সময়ে চার্জার ফ্যানের দাম নিয়ে কারসাজির অভিযোগ ওঠার পর নড়েচড়ে বসেছে ইলেকট্রিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন (বিইএ)। সংগঠনটি জানিয়েছে, এই ধরনের ফ্যানের দাম বেঁধে দেওয়া হবে।
সোমবার (২৫ জুলাই) রাজধানীর কারওয়ান বাজারে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর কার্যালয়ে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় এই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছে সংগঠনটি।
বৈদ্যুতিক সরঞ্জামের অযৌক্তিক মূল্যবৃদ্ধি প্রতিরোধে সভাটির আয়োজন করে অধিদপ্তর।
লোডশেডিং শুরুর পর চার্জার ফ্যানের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ার তথ্য তুলে ধরেন ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা। এর প্রেক্ষিতে বিইএর চেয়ারম্যান খন্দকার রুহুল আমীন জানান, চার্জার ফ্যানের সিংহভাগই আমদানি করা হয়। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে যন্ত্রপাতি আমদানি করে দেশে সংযোজন করা হয়।
সম্প্রতি জ্বালানি সংকটে বিদ্যুৎ উৎপাদনে বিঘ্ন ঘটায় সরকার লোডশেডিংয়ের ঘোষণা দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বাজারে চার্জার লাইট, জেনারেটর কেনার হিড়িক পড়েছে। কোনো কোনো খুচরা দোকানে মাত্র তিন ঘণ্টার মধ্যে একেকটি চার্জার ফ্যানের দাম এক থেকে দেড় হাজার টাকা পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। বেড়েছে চার্জার লাইট ও জেনারেটরের দামও। আবার খুচরা পর্যায়ে বিক্রি বেড়ে যাওয়ার সুযোগ নিয়ে পাইকারি ব্যবসায়ীরাও এসব পণ্যের সরবরাহ কমিয়ে দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন।
গত কয়েকদিন দেশের কয়েকটি ইলেকট্রিক্যাল পণ্যের বাজারে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের অভিযানে এমন চিত্র উঠে এসেছে।
সোমবারের সভায় রাজধানীর নবাবপুর, স্টেডিয়াম মার্কেটসহ কয়েকটি ইলেকট্রিক্যাল পণ্যের বাজারে অভিযানে অস্বাভাবিক দামে ফ্যান বিক্রির তথ্য তুলে ধরেন অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক আব্দুল জব্বার মণ্ডল ও ফাহমিনা আক্তার। বলেন, ‘বিক্রেতাদের কাগজপত্র ঘেঁটে দেখা গেছে, সকালের দিকে যে চার্জার ফ্যান দুই-আড়াই হাজার টাকায় বিক্রি হয়েছে, সেই একই ফ্যান বিকেলে ৩ থেকে সাড়ে ৩ হাজার টাকায় বিক্রি করা হয়েছে। কেউ কেউ ক্রয় ভাউচারে আগের দাম ঘষামাজা করে নতুন বাড়তি দর লিখে রেখেছেন। বেশিরভাগ আমদানি করা ফ্যানে খুচরা মূল্য লেখা পাওয়া যায়নি।’