বিদ্যুৎ সংকট মোকাবিলায় বড়পুকুরিয়া খনি থেকে কয়লা উত্তোলনে নজর দিচ্ছে সরকার। আগস্টের মাঝামাঝি থেকে কয়লা উত্তোলন শুরুর কথা থাকলেও তা আরও আগে শুরু হচ্ছে।
সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, বুধবার (২৭ জুলাই) থেকেই খনির নতুন কূপ থেকে পরীক্ষামূলক কয়লা উত্তোলন শুরু হচ্ছে। এর ফলে কয়লা সংকটের কারণে বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধের যে আশংকা তৈরি হয়েছিল তা আপাতত দুর হচ্ছে।
বড়পুকুরিয়া কয়লা খনির ১৩১০ নম্বর কূপে মজুত শেষ হয়ে যাওয়ায় নতুন কূপ থেকে কয়লা উত্তোলনের প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়। এ প্রক্রিয়া শুরু হয় গত মে থেকে।
কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নতুন কূপ থেকে কয়লা উত্তোলন করতে হলে পুরাতন কূপ থেকে যন্ত্রপাতি নতুন কূপে স্থানান্তর করতে হয়। এ কাজে দুই থেকে তিন মাসের মতো সময় লাগে। এবার নতুন কিছু যন্ত্রপাতি আসার কারণেও নতুন কূপে কাজ শুরু করতে চার থেকে পাঁচ মাস সময় লাগার কথা ছিল। যন্ত্রপাতি স্থানান্তর ও নতুন কূপে স্থাপনের কাজ করছে চীনা কোম্পানি সিএমসি-এক্সএমসি।
নতুন কূপ থেকে আগস্টের মাঝামাঝি থেকে কয়লা উত্তোলন শুরুর কথা জানিয়েছিল চীনা কোম্পানিটি। কিন্তু বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎকেন্দ্রে ব্যবহারের জন্য কয়লার মজুত দ্রুত ফুরিয়ে আসছে। এতে বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎকেন্দ্রটি বন্ধের আশঙ্কা তৈরি হয়। দেশে জ্বালানি সংকটে উত্তরাঞ্চলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এ কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রটি বন্ধ হয়ে গেলে বিদ্যুতের সংকট আরও তীব্র হবে বলে মনে করা হচ্ছে।
এ ঝুঁকি এড়াতে সময়সীমার আগেই নতুন কূপ থেকে কয়লা উত্তোলন শুরু হচ্ছে।
আগামী এক সপ্তাহের মধ্যেই ১৩০৬ নম্বর কূপ থেকে কয়লা উত্তোলনে যেতে চায় বড়পুকুরিয়া কোল মাইনিং কোম্পানি লিমিটেড (বিসিএমসিএল)। বিসিএমসিএল সূত্র জানিয়েছে, বিষয়টি নিয়ে এরইমধ্যে চীনা ঠিকাদারি কোম্পানির সঙ্গে আলোচনা শেষ হয়েছে।