সংসদে ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ৭.২% প্রবৃদ্ধি জিডিপির প্রবৃদ্ধির-উন্নয়ন ও সমতাভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্য নিয়ে ৩ লাখ ৪০ হাজার ৬০৫ কোটি টাকার বাজেট পেশ করছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত।
বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে ৩টায় বাজেট উত্থাপন শুরু করে রাত ৭টায় শেষ করেন তিনি। সরকারের চলতি মেয়াদের ৩য় আর নিজের ব্যক্তিগত ১০ম বাজেট এটি।
সংসদে বাজেট পেশের আগে প্রথমেই সংসদের কাছে অনুমতি চান অর্থমন্ত্রী। পরে স্পিকার সম্মতি দিলে বাজেট বক্তৃতা শুরু করেন তিনি।
এবারের বাজেটে লক্ষ্য ধরা হয়েছে আর মুল্যস্ফীতি ৫.৮%। নতুন মূল্যসংযোজন কর বা মূসক আইন বাস্তবায়ন হচ্ছে আগামী ১ জুলাই থেকেই।
২০২১ সালের মধ্য স্বল্পন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশের কাতারে শামিল হতে, এবার বরাদ্দ বাড়ানো হয়েছে শিক্ষা-স্বাস্থ্য এবং পরিবহণ ও যোগাযোগ খাতে। এসবের জন্য রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যও ঠিক করা হয়েছে গত বারের চেয়ে প্রায় ৩৫% বেশি।
বাজেট উপলক্ষে শত ব্যস্ততার মাঝেও সংসদে দেখা মেলে সদা হাস্যজ্জ্বোল অর্থমন্ত্রীর। হাতে সেই প্রথাগত বাজেট-দলিলের কালো ব্রিফকেস, গায়ে হালকা সবুজ পাঞ্জাবির ওপর মুজিব কোট। সংসদ নেতা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে অনুগমন করে বার্ষিক আয়-ব্যয়ের গাদা গাদা দলিল-দস্তাবেজ নিয়ে অধিবেশন কক্ষে ঢোকেন তিনি।
অধিবেশন কক্ষেও বাজেট পেশের মুখরতা, ছিল না কোরাম সংকটের অস্তিত্ব। এরমধ্যেই বক্তব্য দেয়া শুরু করেন অর্থমন্ত্রী। উপস্থাপন শুরু হয় অর্থনীতির গত ৭ বছরের সাফল্যের ভিডিও দেখিয়ে।
অশীতিপর আবুল মাল আবদুল মুহিত দীর্ঘ বাজেট প্রস্তাব পেশ করেন কখনো দাঁড়িয়ে, কখনো বসে। এবারের বাজেট ব্যক্তিগতভাবে তাঁর দশম উপস্থাপন।
২০১৬-১৭ অর্থবছরের বাজেট আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন বর্তমান মহাজোট সরকারের তৃতীয় বাজেট। এবার আকার বেড়েছে ১৭.৪%। তবে স্পষ্ট হয়েছে বিশেষ কিছু বৈশিষ্ট্য।
বলা হয়েছে, জিডিপির প্রবৃদ্ধি হবে ৭.২%, মূল্যস্ফীতি নেমে আসবে ৫.৮%-এ। স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে উন্নয়নশীল দেশের কাতারে শামিল হতে অধিকতর গুরত্ব এসেছে শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে। বেশি বরাদ্দ দেয়া হয়েছে পরিবহন ও যোগযোগ খাতে।
অর্থমন্ত্রী বলেন, আগামী অর্থবছরে সরকার আয় করবে ২ লাখ ৪২ হাজার ৭৫২ কোটি টাকা। যার মধ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড আদায় করবে ২ লাখ ৩ হাজার ১৫২ কোটি টাকা। যদিও বিগত অর্থবছরে এনবিআরকে ১ লাখ ৭৬ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা দেওয়া হলেও তা আদায় করা যায়নি। বিষয়টি স্বীকারও করেন মন্ত্রী।
এদিকে, সামাজিক নিরাপত্তা বা সামাজিক সুরক্ষার আওতায় বেসরকারি চাকুরিজীবীদের বিশেষ সুখবর দিয়েছে প্রস্তাবিত বাজেট। প্রথমবারের মতো তাদের জন্য থাকছে পেনশন প্রাপ্তির সুযোগ। যা পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করা হবে।
এবার বাড়েনি করমুক্ত আয়সীমাও। কিন্তু এনবিআরকে খুঁজতে হবে নতুন ৩ লাখ করদাতা।
আর সরকারের খরচের বেশির ভাগ চলে যাবে বেতন, ঋণের সুদ এবং ভর্তুকি দিয়েই। সব মিলিয়ে বাজেটে আয়ের তুলনায় ব্যয়ের চাপই রয়েছে সবচেয়ে বেশি।
দিনের শুরুতে সংসদ ভবনের কেবিনেট কক্ষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভার বিশেষ বৈঠকে ৩ লাখ ৪০ হাজার ৬০৫ কোটি টাকার বাজেট পেশের অনুমোদন মেলে। নতুন বাজেট কার্যকর হবে আগামী ১ জুলাই থেকে।