ঢাকা উত্তরে আটটি এবং দক্ষিণে আটটি স্থান থেকে ভোটের সরঞ্জাম কেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রিজাইডিং কর্মকর্তাদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে সোমবার সকাল ১০টার পর ১৬টি স্থান থেকে ঢাকা উত্তরের ১ হাজার ৯৩টি এবং দক্ষিণে ৮৮৯টি কেন্দ্রে পুলিশি পাহারায় পাঠানো হয়েছে।
এতে স্বচ্ছ ব্যালট বাক্স, ব্যালট পেপার, প্যাড, সিল, অমোচনীয় কালিসহ অন্যান্য উপকরণ রয়েছে।
ভোটের সরঞ্জামের মধ্যে সুঁই, সুতা, সুপার গ্লু, স্ট্যাপলার, ভোটার তালিকা, কার্বন পেপার, মোমবাতি, স্কেল, কলমসহ মোট ৬৫ ধরনের উপকরণ রয়েছে।
মেয়র প্রার্থীদের জন্য সাদা, সাধারণ কাউন্সিলরদের জন্য সবুজ এবং সংরক্ষিত নারী ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থীদের জন্য গোলাপী রঙের ব্যালট পেপার তৈরি করা হয়েছে।
ঢাকা দক্ষিণের রিটার্নিং কর্মকর্তা মিহির সারওয়ার মোর্শেদ সাংবাদিকদের বলেন, সকাল ১০টা থেকে আমাদের সহকারি রিটার্নিং কর্মকর্তারা নির্বাচনের সরঞ্জাম বিতরণ শুরু করেছেন।
প্রিজাইডিং কর্মকর্তারা পুলিশি নিরাপত্তায় এসব সরঞ্জাম নিজ নিজ কেন্দ্রে নিয়ে যান। এরপর নিরাপত্তার জন্য ৪০০ গজের বেষ্টনি নির্ধারণ করে ভোটকক্ষে ভোটারদের জন্য ‘গোপন কক্ষ’ প্রস্তুত করবেন তারা।
রিটার্নিং কর্মকর্তা জানান, দায়িত্বপ্রাপ্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা রাতে যার যার কেন্দ্রে অবস্থান করবেন।
তিনি আরো বলেন, পুলিশ ও র্যা ব আছে। তারা সব ধরনের সহযোগিতা দেবে। সেনাবাহিনী রিজার্ভ ফোর্স। প্রয়োজন হলে আমরা তাদের সহায়তা নেয়া হবে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় জিমনেশিয়াম, আজিমপুর সরকারি গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজ, হাজি গোলাম মোরশেদ কমিউনিটি সেন্টার, লক্ষ্মীবাজারের ঢাকা মহানগর মহিলা কলেজ,
মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল ও কলেজ, যাত্রাবাড়ীর সাদেক হোসেন খোকা কমিউনিটি সেন্টার, লোহারপুলের জহির রায়হান সাংস্কৃতিক কেন্দ্র এবং ডেমরা থানা নির্বাচন অফিস থেকে ঢাকা দক্ষিণের কেন্দ্রগুলোর জন্য সরঞ্জাম পাঠানো হচ্ছে।
ঢাকা উত্তরের রিটার্নিং মো. শাহ আলম বলেন, আমরা নির্ধারিত স্পট থেকে নির্বাচনের সরঞ্জাম কেন্দ্রে কেন্দ্রে পাঠাচ্ছি। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে সন্ধ্যার মধ্যে সব পৌঁছে যাবে।
উত্তর সিটি করপোরেশনে উত্তরা কমিউনিটি সেন্টার, বনানী বিদ্যা নিকেতন, আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের বনশ্রী শাখা, মিরপুরের ঢাকা ডেন্টাল কলেজ, মিরপুর বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ, মিরপুরের ঢাকা শিক্ষা বোর্ড ল্যাবরেটরি স্কুল অ্যান্ড কলেজ, শেরেবাংলা নগরের রাজধানী উচ্চ বিদ্যালয়, মোহাম্মদপুরের ঢাকা রেসিডেনসিয়াল কলেজ থেকে সরঞ্জাম বিতরণের কাজ চলছে।
চট্টগ্রামেও কেন্দ্রে কেন্দ্রে ব্যালট পেপার ও ভোটের সরঞ্জাম পৌঁছানোর কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন নির্বাচনী কর্মকর্তারা।
এমএ আজিজ স্টেডিয়ামের জিমনেশিয়ামে সকাল থেকে ৭১৯টি কেন্দ্রের প্রিজাইডিং কর্মকর্তাদের মধ্যে সরঞ্জাম বিতরণ করা হচ্ছে বলে চট্টগ্রাম সিটি নির্বাচনের সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা শফিকুর রহমান জানান।
সিটি নির্বাচনের প্রচার-প্রচারণা মধ্যরাতেই শেষ হয়েছে। মঙ্গলবার তিন সিটি নির্বাচনের ভোটগ্রহণ। চলবে সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত। ইতোমধ্যেই সব প্রস্তুতি শেষ করে এনেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।
সুষ্ঠু নির্বাচনী পরিবেশ নিশ্চিত করতে সতর্ক আছে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর ৭৫ হাজার সদস্য। ঢাকা উত্তরে ১৬, দক্ষিণে ১৯ ও চট্রগ্রামে ১২ এই তিন সিটি মিলিয়ে ৪৭ জন মেয়র প্রার্থী লড়ছেন নির্বাচনে।
রোববার মধ্যরাতে ভোটগ্রহণের ৩২ ঘণ্টা আগেই শেষ হয় সিটি নির্বাচনের প্রচার-প্রচারণা। শেষ সময় পর্যন্ত নগরীর উন্নয়নে নানা প্রতিশ্রুতি দিয়ে ভোটারদের মন জয়ের চেষ্টা করেন প্রার্থীরা।
ঢাকা উত্তর, ঢাকা দক্ষিণ ও চট্রগ্রাম সিটির নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে সব প্রস্তুতি শেষ করেছে নির্বাচন কমিশন। তিন সিটির সব জায়গায় ব্যালট পেপার, স্বচ্ছ ব্যালট বাক্সসহ পৌঁছে গেছে ভোটের যাবতীয় সরঞ্জাম।
ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ দুই সিটিতে মোট ৯৩টি ওয়ার্ড। এর মধ্যে-
ভোটার ৪২ লাখ ২৫ হাজার ১২৭ জন
পুরুষ ভোটার ২২ লাখ ৩৩ হাজার ৯৮৭ জন
নারী ভোটার ১৯ লাখ ৮২ হাজার ১৪০ জন
ভোট কেন্দ্র ১৯ হাজার ৮২টি
ভোটকক্ষ ৯১ হাজার ২১৩টি
ভোট গ্রহণ কর্মকর্তা ৩৩ হাজার ৮৯৬ জন
আর চট্রগ্রাম মহানগরীর ৪১টি ওয়ার্ডে
ভোটার ১৮ লাখ ১৩ হাজার ৪৪৯ জন
ভোট কেন্দ্র ৭১৯টি
তিন সিটির প্রায় ৮২% কেন্দ্রকে ঝুঁকিপূর্ণ বলে চিহ্নিত করেছে নির্বাচন কমিশন।
নির্বাচনী এলাকার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর প্রায় ৭৫ হাজার সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।
এদিকে, মাঠে না থাকলেও সেনা নিবাসে রিজার্ভ ফোর্স হিসেবে প্রস্তুত থাকছে তিন ব্যাটালিয়ন সেনা। এর মধ্যে-
ঢাকা উত্তরের জন্য ৩০ হাজার ৭৬৪জন
দক্ষিণে ২১ হাজার ৪৭০ জন
চট্টগ্রামে ২১ হাজার ৪৭০জন
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন থাকছে।
এছাড়া, প্রতিটি ভোট কেন্দ্রে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ২২ জন এবং ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে ২৪জন সদস্য মোতায়েন থাকবে বলে কমিশন জানিয়েছে।