বাংলাদেশের ভাইবোনেরা কেমন আছো। আমরা তোমাদের সাথে আছি—আমরা তোমাদের সাথে নিয়ে চলবো।আমরা বাংলা বলাটা কেমন—সুধী সমাজে এ কথা বলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।
বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ভারতীয় হাই কমিশন ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আয়োজিত অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে ভারতের প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। রোববার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় অনুষ্ঠান স্থলে প্রবেশ করে তিনি।
তার ভাষণের কিছু কথা দেয়া হলো:
প্রধানমন্ত্রী, রাষ্ট্রপতি ও মন্ত্রীরা যেভাবে আমাকে সম্মান- স্বাগত জানিয়েছেন এই সম্মান, এ স্বাগত ও অভ্যর্থনা নরেন্দ্র মোদির নামে এক ব্যক্তির নয় সোয়া শো কোটির ভারতবাসীর।
এ দুদিনের সফরের পর শুধু এশিয়া নয় সমগ্র বিশ্ব এটিকে ময়নাতদন্ত করবে। কেউ হয়ত মাপকাটি নিয়ে খতিয়ে দেখবে কি হারালাম আর কি পেলাম। তবে এক ব্যক্তি যদি আমাকে বলতে হয় লোকেরা মনে করতেন আমরা পাশেপাশে রয়েছি কিন্তু বিশ্বকে স্বীকার করতে হবে আমরা পাশাপাশিও রয়েছি এবং একসঙ্গেও রয়েছি।
বাংলাদেশের সঙ্গে আমার আবেগপূর্ণ একটা যোগাযোগ রয়েছে। সেই আবেগপূর্ণ যোগাযোগ হলো আমার জীবনে এবং রাজনৈতিক জীবনে যে পথ নির্দেশনা পেয়েছি যাদের হাত ধরে আমরা চলেছি তিনি হচ্ছেন ভারত মাতার সুপুত্র অটল বিহারি বাজপেয়ি। আজ বাংলাদেশ তাকে বিশেষভাবে সম্মানিত করেছে। আর সম্মান পেয়েছি মুক্তিযোদ্ধা রাষ্ট্রপতিজীর হাত থেকে। এ সম্মান পেয়েছি বঙ্গবন্ধুর ব্যাটির উপস্থিতিতে। আর সম্মান নেয়ার সৌভাগ্য ছিল যৌবনকালে রাজনীতির সঙ্গে যার কোনো যোগাযোগ ছিল না, আমি সেই ব্যক্তি অনেক দেরি করে রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হয়েছি প্রায় ৯০ এর আশেপাশে। কিন্তু আমার জীবনে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড, রাজনৈতিক অনুষ্ঠানে অংশ নেয়ার সৌভাগ্য হয়েছে। আমি যুবক ছিলাম যুবক সংক্রান্ত যে সব গতিবিধি ছিল তার সঙ্গে যুক্ত ছিলাম, সেই সময় খবরের কাগজে পড়তাম বাংলাদেশের লড়াইয়ের ব্যাপারে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ব্যাপারে। যেমন আপনাদের রক্ত গরম হয়ে যায় আমাদেরও রক্ত গরম হয়ে যেত। অত্যাচারের বিরুদ্ধে এখানে যে আওয়াজ উঠেছিল তা আমাদের কানে পৌঁছায়। জীবনে প্রথমবার গ্রাম ছেড়ে দিল্লিতে ভারতীয় জনসংঘের মাধ্যমে বাংলাদেশের মানতার জন্য সত্যাগ্রহ চলছিল তাতে আমি যুক্ত হওয়ার সৌভাগ্য আমি পেয়েছিলাম।’
মোদি বলেন, ‘চীনে গিয়েছিলাম সেখানে একজন বলেছিলেন, তোমাদের পাশে রয়েছে ১৭ কোটির দেশ যা বস্ত্রে দুই নম্বরে রয়েছে। মন থেকে বলছি তখন খুব আনন্দিত হয়েছিলাম। যারা বিকাশশালী দেশ আমরা তাদের একজন প্রতিবেশি। এটি সত্যি আমাকে আনন্দিত ও অভিভূত করেছে। সূর্য আগে এখানে উঠে তারপর আমাদের কিরণ যায়। আমাদের দেশে বাংলাদেশ থেকে শিখতে হবে।’
নরেন্দ্র মোদি বলেন, ‘আমরা গর্বিত অনুভব করি যে- আমাদের সেন্যরাও এই দেশের জন্য রক্ত দিয়েছিল। প্রধানমন্ত্রীকে বিশেষভাবে অভিনন্দন জানাই। তিনি একটি লক্ষ্য রেখেছেন তা হলো বিকাশ। ধারাবাহিকভাবে ৬ শতাংশ বিকাশ। এটি সাধারণ কথা নায়। আমি স্পষ্ট ভাষায় বলতে পারি।’
স্থলসীমান্ত চুক্তি শুধু জমি সমস্যার সমাধান নয়, দুই দেশের মনকে যুক্ত করে দিয়েছে
বলে জানান তিনি।
ভারতের প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'আমি জানি- গরিব দেশকে বিকাশের জন্য আমাদের মতো সবাইকে একজোট হয়ে লড়তে হবে। আমাদের সমস্যা সমাধান করার জন্য কাঁধে-কাঁধ মিলিয়ে এগিয়ে চলব। বিকাশের রাস্তায় আমাদের এগিয়ে যেতে হবে। একজোট হয়ে চলতে হবে। আমাদের যুক্ত হওয়ার শক্তিকে নিয়ে এগিয়ে চলতে হবে। আপনার প্রধানমন্ত্রী (শেখ হাসিনা) আর আমার চিন্তা সম্পূর্ণ এক। আমার মস্তিষ্কে এক চিন্তা- বিকাশ, বিকাশ, বিকাশ তারও একই চিন্তা শুধুই উন্নতি। বাংলাদেশ ও ভারতের শক্তি এক হয়ে লড়তে হবে। এক জোট হয়ে চলতে হবে।'
বক্তব্যের শেষ দিকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'নোয়াখালী ছুটে যেতে মন চায়। সেখানে আশ্রম রয়েছে বাপুজির। পদ্মা নদীতে নৌকার ওপর সেই জায়গাটি দেখতে ইচ্ছে করে, আড্ডার জন্য। আড্ডা ছাড়া বাংলাদেশের যাত্রা অসম্পূর্ণ থাকবে।'কবি জীবনানন্দ দাশের 'আবার আসিব ফিরে' কবিতার একটি লাইন দিয়ে বক্তব্য শেষ করেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তিনি বলেন, 'কবিতা দিয়ে শেষ করছি- 'আবার আসিব ফিরে ধানসিঁড়িটির তীরে, এই বাংলায়। আবার আসিব ফিরে ধানসিঁড়িটির তীরে, এই বাংলায়।' যে স্বপ্ন আমি আমার দেশের জন্য দেখি সেই স্বপ্ন তোমাদের জন্যও দেখি।
অনুষ্ঠানে শেষে সেখান থেকে সরাসরি দেশের পথে রওনা হয়েছেন তিনি।
গতকাল সকালে প্রথমবারের মতো ঢাকায় আসেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।