সিলেট ও সুনামগঞ্জে বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। পাহাড়ি ঢল আর অতি ভারী বৃষ্টিতে নদনদী ও হাওরের পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় বন্যার আরও বিস্তৃতি ঘটেছে।
স্মরণকালের ভয়াবহ বন্যায় তলিয়ে গেছে সিলেটের সীমান্তবর্তী এলাকার বাড়িঘর, মহাসড়ক। ভেঙে পড়েছে যোগাযোগব্যবস্থা। দুর্ভোগে পড়েছে লাখো পানিবন্দী মানুষ। বন্যা পরিস্থিতি দেশের আগের সব রেকর্ড ভেঙেছে। এমন পরিস্থিতিতে বন্যা দুর্গতের পাশে থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। একই সঙ্গে জাতীয় দলের সঙ্গে ওয়েস্ট ইন্ডিজে থাকা সিলেটি ক্রিকেটারদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ রাখার কাজ অব্যাহত রেখেছে বোর্ড।
রোববার(১৯ জুন) রাজধানীর মিরপুরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এমন তথ্যই জানিয়েছেন বিসিবির প্রধান নির্বাহী নিজামউদ্দিন চৌধুরি সুজন।
তিনি বলেন, ‘অবশ্যই আমাদের সব সময় চেষ্টা থাকে এ ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগে যারা ক্ষতিগ্রস্ত হন, তাদের পাশে থাকার। এবারও ব্যতিক্রম হবে না।’
সিলেটের বর্তমান পরিস্থিতিতে কীভাবে সাধারণ মানুষদের পাশে দাঁড়ানো যায় সে ব্যাপারে নির্দেশনা দিয়েছেন বিসিবির সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন।
এ ব্যাপারে নিজামউদ্দিন চৌধুরি বলেন, ‘আমাদের বোর্ড সভাপতি (পাপন) মহোদয় এরই মধ্যে আমাদের নির্দেশনা দিয়েছেন কীভাবে কাজ করলে কিছুটা হলেও তাদের পাশে থাকা যাবে। সেভাবে আমাদের দেখতে বলেছেন এবং আমরা সেটা নিয়ে কাজ করছি। আমাদের যে সংশ্লিষ্ট বোর্ড পরিচালক (শফিউল ইসলাম নাদেল) আছেন, তার সঙ্গে আমাদের কথা হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে ওনি যোগাযোগ করছেন কীভাবে আমরা সহযোগিতা করতে পারি বা কীভাবে আমরা পাশে থাকতে পারি।’
জাতীয় দলের সঙ্গে দেশের বাইরে আছেন সিলেটের পেসার খালেদ আহমেদ ও ইবাদত হোসেন। দুর্যোগের এই সময় তাঁদের পরিবারের সঙ্গে সর্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখা হচ্ছে জানান সুজন, ‘সিলেটের আমাদের জাতীয় দলের কিছু খেলোয়াড় আছেন, যারা বর্তমানে দলের সঙ্গে দেশের বাইরে অবস্থান করছেন। তাদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ রাখার জন্য আমাদের বলা হয়েছে। আমরা সেভাবে কাজ করছি। আমাদের সংশ্লিষ্ট বোর্ড পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগ আছে। দুর্যোগের পর যেসব সমস্যা হবে সে সব বিষয়ে আমরা চিন্তা ভাবনা করছি কীভাবে তাদের পাশে থাকা যায়।’
শুধু জাতীয় দলের না। ক্রিকেটের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবার সঙ্গে যোগাযোগ রাখতে নির্দেশ দিয়েছেন বিসিবি প্রধান। এ বিষয়ে নিজামউদ্দিন চৌধুরি বলেছেন, ‘বোর্ড সভাপতি মহোদয় এ ব্যাপারে নির্দেশনা দিয়েছেন যে, আমাদের যেসব খেলোয়াড়রা আছেন তাদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতে। এটা শুধু আমাদের জাতীয় দলের সঙ্গে যারা আছেন তারা না, আমার ক্রিকেট সংশ্লিষ্ট যারা আছেন প্রত্যেকবার তাদের পাশে থাকার চেষ্টা করি। অবশ্যই এবারও থাকব।’
দুর্যোগের সময় আশ্রয় কেন্দ্রের প্রয়োজন হয়। সিলেট আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামের সে ধরনের কোনো ব্যবস্থা করার অনুরোধ আসেনি। এমন কোনো অনুরোধ এলে সে ব্যাপারেও ভেবে দেখার কথা জানিয়েছে বিসিবি।