রংপুরের গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে সাঁওতালদের লাগানো জমির ধান কাটা বৃহস্পতিবার কাজ শুরু করেছে চিনিকল কর্তৃপক্ষ।
চিনিকল কর্তৃপক্ষকে উদ্ধৃত করে আমাদের সংবাদদাতা জানিয়েছেন, বেলা সাড়ে ১১টায় এ ধান কাটা শুরু হয়, চিনিকল কর্তৃপক্ষের উদ্যোগে ধান কাটা মেশিন দিয়ে কাটা হচ্ছে সারাদিন এ কাজ চলবে।
ধান কাটার সময় কোনো সাঁওতালকে ও্ই এলাকায় দেখা যায়নি বলে জানা গেছে।
চিনিকলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবদুল আওয়াল বলেন, ধান কাটার জন্য তাদের সম্মতি নেয়া হয়েছে। মেশিন দিয়ে ধান কেটে, মাড়াই করে, বস্তায় ভরে সাঁওতালদের দেয়া হবে।
গত সোমবার গাইবান্ধার রংপুর চিনিকলের বিরোধপূর্ণ জমি থেকে উচ্ছেদ হওয়া সাঁওতালদের ফসল তাদের বুঝিয়ে দিতে হাইকোর্টের নির্দেশের পর তাদের ধান কেটে দেয়ার প্রস্তাব দেয় চিনিকল কর্তৃপক্ষ।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আব্দুল হান্নান, রংপুর চিনিকলের এমডি আব্দুল আউয়াল ও ওসি সুব্রত কুমার সরকার মাদারপুর গ্রামে গিয়ে সাঁওতালদের নেতাদের সঙ্গে দেখা করে তাদের রোপণ করা ধান কেটে দেয়ার জন্য চাষিদের তালিকা চান। ও্ই সময় সাঁওতাল নেতারা জমির ধান তারা নিজেরাই কাটবেন বলে জানান।
গত ১১ নভেম্বর এক রিট আবেদনের শুনানিতে বিচারপতি ওবায়দুল হাসান ও বিচারপতি কৃষ্ণা দেবনাথের বেঞ্চ জমিতে সাঁওতালদের চাষের ধান কাটতে দেয়ার অনুমতি দেয়। নয়ত চিনিকল কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় প্রশাসন ধান কেটে সাঁওতালদের বুঝিয়ে দেয়ার কথাও বলে।
এদিকে, সাঁওতালদের ওপর হামলা, লুটপাট, অগ্নিসংযোগ এবং গুলি করে হত্যার ঘটনায় করায় মামলায় এ নিয়ে গত চার দিনে ১৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
গোবিন্দগঞ্জ থানার ওসি সুব্রত কুমার সরকার জানান, সাঁওতালদের পক্ষে স্বপন মুরমু নামে এক যুবক ওই ঘটনায় বুধবার গভীর রাতে অজ্ঞাতনামা ৫০০/৬০০ জনকে আসামি করে যে মামলা করেছেন ওই মামলায় সন্দেহভাজন হিসেবে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
চলতি বছরের ১ জুলাই সাঁওতালরা সাহেবগঞ্জ বাণিজ্যিক খামারের জমি দখল করে বসবাস শুরু করেন। ৬ নভেম্বর তাদের উচ্ছেদ করা হয়। সাঁওতালরা খামারের মোট ১ হাজার ৮৪২ একর জমির মধ্যে প্রায় ১৩৫ একর জমিতে রোপা আমন ধান চাষ করেন, যার মধ্যে ৩০ একর জমির ধান পেকেছে সেগুলো কাটা হচ্ছে। ধান কাটা মেশিন দিয়ে ঘণ্টায় প্রায় এক বিঘা জমির ধান কাটা যায়।
প্রসঙ্গত: ৬ নভেম্বর গোবিন্দগঞ্জ উপজেলায় রংপুর চিনিকলের জমিতে আখ কাটা কেন্দ্র করে পুলিশ ও চিনিকল শ্রমিক-কর্মচারীদের সঙ্গে সাঁওতালদের সংঘর্ষ হয়। ওই সংঘর্ষে ৩ জন মারা যান। পুলিশসহ উভয়পক্ষের কমপক্ষে ২০ জন আহত হন। এ ঘটনার ১১ দিন পর সাঁওতালদের মামলা নেয় পুলিশ। সাঁওতালদের পক্ষে উপজেলার সাপমারা ইউনিয়নের রামপুরা গ্রামের স্বপন মুরমু বাদী হয়ে প্রায় ৬০০ জনকে অজ্ঞাত আসামি দেখিয়ে এ মামলা করেন।