বিদ্যুৎ সংকট মোকাবিলায় দেশজুড়ে এলাকাভিত্তিক লোডশেডিংয়ের সিদ্ধান্তের অংশ হিসেবে সিলেটেও গত ১৯ জুলাই থেকে লোডশেডিং শুরু হয়েছে। তবে বিদ্যুৎ বিভাগ সিলেটে লোডশেডিংয়ের যে সময়সূচি করেছে তার বাইরেও লোডশেডিং হচ্ছে।
গ্রামে দুই ঘণ্টা পরপর এক ঘণ্টা, আবার কোথাও এক ঘণ্টা পরপর লোডশেডিংয়ের সূচি করা হয়েছে। দিনে ও রাতে গ্রামে ১২ ঘণ্টা পর্যন্ত লোডশেডিং হচ্ছে। তবে এর বাইরেও বিভিন্ন এলাকায় লোডশেডিং হচ্ছে। সেটা কখনো কখনো এক থেকে আড়াই ঘণ্টা পর্যন্ত স্থায়ী হচ্ছে। এমন অবস্থা হওয়ায় গ্রাহকেরা পড়েছেন ভোগান্তিতে।
সিলেট জেলা বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিউবো) ও পল্লী বিদ্যুতের কর্মকর্তারা বলছেন, বিদ্যুতের চাহিদার তুলনায় সরবরাহ অর্ধেকের কম হওয়ায় কোনো সূচিই ঠিক রাখা যাচ্ছে না। অনিচ্ছা সত্ত্বেও লোডশেডিং করতে হচ্ছে। তবে তার স্থায়িত্ব ঘণ্টার কম।
তারা গণমাধ্যমকে আরও বলেন, আমরা চেষ্টা করছি যাতে সূচির বাইরে লোডশেডিং না হয়। আবার লোডশেডিং হলেও যেন তা বেশিক্ষণ স্থায়ী না হয়। কিন্তু অনেক সময় সরবরাহ স্বল্পতায় সেটিও বাস্তবায়ন করা যাচ্ছে না।
বিউবোর সিলেট বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগের প্রধান প্রকৌশলী মুহাম্মদ আবদুল কাদির গণমাধ্যমকে বলেন, সোমবার (২৫ জুলাই) দিনে জেলায় বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ১৫০ মেগাওয়াট। আর সরবরাহ ছিল ৮৬ মেগাওয়াট। চাহিদা ও সরবরাহ বিবেচনায় লোডশেডিংয়ের সূচি তৈরি করা হয়েছে। তবে সরবরাহ কম থাকলে অনিচ্ছা সত্ত্বেও সূচির বাইরে লোডশেডিং করতে হচ্ছে। এ ছাড়া জরুরি মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণ কাজের জন্যও বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখা হয়।
জকিগঞ্জে বিদ্যুৎ সরবরাহ করে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি। সংস্থাটির জকিগঞ্জ আঞ্চলিক কার্যালয়ের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার মো. আবুল কালাম আজাদ গণমাধ্যমকে বলেন, সোমবার জকিগঞ্জ কার্যালয়ের অধীন বিদ্যুতের চাহিদা ছিল সাড়ে ৭ মেগাওয়াট। এর মধ্যে প্রায় অর্ধেক সরবরাহ করা হয়েছিল। এতে নিয়ম মেনেই লোডশেডিং হয়েছে। তবে সরবরাহ সব সময় ঠিক থাকে না। চাহিদা ও সরবরাহ ঠিক থাকলে লোডশেডিং করা হয় না।