শিডিউলের বাইরে লোডশেডিংয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন বাগেরহাটের মোংলা পৌরবাসী। গভীর রাতেও চলছে লোডশেডিং। এতে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন পৌর এলাকার মানুষ।
সোমবার (২৫ জুলাই) রাত ১২টা ১০ মিনিটে হঠাৎ বিদ্যুৎ চলে যায়। এরপর টানা এক ঘণ্টা পর আসে। এর আগের রাতেও এভাবেই চলেছে কয়েকবার লোডশেডিং। গভীর রাতে লোডশেডিংয়ে চুরি-ছিনতাইয়ের আতঙ্কে রয়েছেন স্থানীয়রা। এছাড়া অন্ধকারে যান চলাচলও চরম ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
পৌর শহরের শেখ আব্দুল হাই সড়কের দোকানি রুহুল আমিন বলেন, এখন প্রায়ই রাত ১২টার পর বিদ্যুৎ চলে যায়। কখন আসে কেউ বলতে পারে না। এতে তো দোকানপাটের তালা ভেঙে চুরি হওয়ার ভয় আছে।
পৌর শহরের নৈশপ্রহরী মো. বেলায়েত হোসেন বলেন, রাতেও লোডশেডিং, সব দোকানপাট বন্ধ। অন্ধকারে কয়টি দোকান পাহারা দেব। কোন জায়গা থেকে চোরে আবার তালা ভেঙে মালামাল নিয়ে যায় সেই আতঙ্কে আছি এখন।
পৌরসভার পরিচ্ছন্নতা কর্মী মোহর আলী গণমাধ্যমকে বলেন, রাত ১২টার পর শহরের ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কার করতে নামি। এই সময় যদি লোডেশেডিং হলে ময়লা তো সব পরিষ্কার হবে না, কারণ অন্ধকারেতো কিছুই দেখা যায় না। আমাদের কষ্ট আরও বেশি হচ্ছে।
শহরতলীর মাকড়ঢোন গ্রামের অটোভ্যান চালক কালাম হোসেন গণমাধ্যমকে বলেন, বেশি রাতে লোডশেডিং হলে গাড়ি চালাতে অনেক সমস্যা হয়। লোডশেডিংয়ে সড়কের বাতিও বন্ধ হয়ে যায়। এই গাড়ির আলোতে অনেক কিছুই তখন অস্পষ্ট হয়ে ওঠে। এতে অনেকটা ভয়ে ভয়ে গাড়ি চালাতে হচ্ছে।
শহরের বান্ধাঘাটার এলাকার মো. সালাম মিয়া গণমাধ্যমকে বলেন, এখন গরমকাল। দিনে যেমন-তেমন, রাতে শুতে গেলেই বিদ্যুৎ নেই এটা খুব কষ্ট দেয়।। রাতে যদি ঘুমাতে না পারি তাহলে সকালে কাজ করবো কিভাবে? তাছাড়া ঘরে চুরির ভয়তো আছেই। বড় ঝামেলার মধ্যে আছি।
লোডশেডিংয়ের অন্ধকারে চুরি-ছিনতাইয়ের শঙ্কা প্রসঙ্গে মোংলা থানার ওসি ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম বলেন, আগে রাতে পৌর শহরে পুলিশের একটি টহল টিম ছিল, লোডশেডিংয়ের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে আরও একটি টিম বাড়ানো হয়েছে। এখন থেকে নিয়মিত রাতে শহরের উত্তর ও দক্ষিণে দুইটি টহল টিম ডিউটিতে থাকবে।
পিডিবি'র মোংলার আবাসিক প্রকৌশলী মো. ফরহাদ হোসেন বলেন, মোংলায় ৪৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎতের চাহিদা থাকলেও সরবরাহ রয়েছে ৩০ মেগাওয়াট। ফলে ঘাটতি থাকছে ১৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ। তাই প্রতিদিন দুই ঘণ্টার লোডশেডিংয়ের নির্দেশনা রয়েছে। তারপরও অন্যান্য জায়গার তুলনায় মোংলায় লোডশেডিং কম হচ্ছে।