আমরা ধর্মনিরপেক্ষতায় বিশ্বাস করি-ধর্মহীনতায় নয়— লতিফ সিদ্দিকী যা বলেছেন মুসলমানদের কাছে তা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। রোববার গণভবনে সন্ধ্যার পরে আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী কমিটির বৈঠকে এ কথা বলেন তিনি।
সভার শুরুতে বক্তব্য রাখেন দলের সভানেত্রী শেখ হাসিনা।
এ সময় শেখ হাসিনা বলেন, লতিফ সিদ্দিকী মুসলমানদের মনে আঘাত দিয়ে বক্তব্য দিয়েছেন, সংবিধান মোতাবেক তাকে মন্ত্রিসভা থেকে বাদ দেয়া হয়েছে।
তিনি আরো বলেন, বিএনপি গণতান্ত্রিক পন্থায় আন্দোলন করেলে কোনো বাধা নেই তবে অগণতান্ত্রিকভাবে করলে কঠোরভাবে দমন করা হবে।
দল থেকেও তাকে বাদ দেয়া হচ্ছে—সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করতে গণভবনে এখন চলছে দলের কার্যনির্বাহী সাংসদদের বৈঠক।
আওয়ামী লীগ সভানেত্রী, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে এ বৈঠকে লতিফ সিদ্দিকীকে দল থেকে বাদ দেয়ার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হওয়ার কথা রয়েছে। সন্ধ্যার আগেই কার্যনির্বাহী সংসদ সদস্যরা গণভবনে উপস্থিত হন।
এর আগে দুপুরে বিরুপ মন্তব্যের জন্য লতিফ সিদ্দিকীকে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। তিনি পদত্যাগ না করায় সংবিধান অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শে রাষ্ট্রপতি তাকে মন্ত্রিসভা থেকে অব্যাহতি দিয়েছেন।
গত ২৯ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে স্থানীয় টাঙ্গাইল সমিতি আয়োজিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্য প্রযুক্তিমন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকী বলেন, ‘আমি কিন্তু হজ আর তাবলিগ জামাতের ঘোরতর বিরোধী। আমি জামাতে ইসলামীরও বিরোধী।’ তার মতে, এতে শ্রমশক্তির অপচয় হয়, উৎপাদনে প্রভাব পড়ে।
এ সময় তিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পুত্র সজিব ওয়াজেদ জয় ও টক শোর আলোচকদের নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করেন।
এ নিয়ে দেশে-বিদেশে সমালোচনার ঝড় ওঠে। দেশের বিভিন্ন জায়গায় বিক্ষোভ, গণমিছিল ও মানববন্ধন করে ২০ দলীয় জোটের নেতাকর্মীরা। মামলা হয় দেশের বিভিন্ন জেলায়। আদালত সমনও জারি করে। ফলে মন্ত্রিসভা ও দল থেকে লতিফ সিদ্দিকীকে সরিয়ে দেয়ার সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয় সরকার।